কুষ্টিয়ায় ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে তৃতীয় শ্রেণির ৯ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে অফিসকক্ষে আটকে রেখে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সাঈদ হোসেন ওরফে নান্নু নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও ভুক্তভোগীর মা থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।
- দৌলতপুরের দারুল আবরার মাদ্রাসার শিক্ষক সাঈদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
- অতিরিক্ত ক্লাসের কথা বলে তৃতীয় শ্রেণির শিশুটিকে অফিসকক্ষে ডেকে নিয়ে ছিটকিনি আটকে দেওয়া হয়।
- ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ করে শিশুর মা মামলা দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ৯ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে অফিসকক্ষে আটকে রেখে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সাঈদ হোসেন ওরফে নান্নু (৪২) নামে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত সাঈদ হোসেন উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের পাকুড়িয়া গ্রামের দারুল আবরার মাদ্রাসার শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি একই মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি প্রতিযোগিতা উপলক্ষে মাদ্রাসায় অতিরিক্ত ক্লাস চলছিল। গত ১৪ অক্টোবর দুপুর ২টার দিকে অন্য সহপাঠীরা চলে যাওয়ার সময় শিক্ষক সাঈদ হোসেন কৌশলে ওই শিশুকে মাদ্রাসার অফিসকক্ষে ডেকে নেন। এরপর দরজার ছিটকিনি আটকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে মাদ্রাসার অন্য শিক্ষার্থী এবং আশপাশের কয়েকজন নারী ছুটে এলে শিক্ষক সাঈদ জুব্বা ও পায়জামা হাতে নিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে শিশুটি উপস্থিত নারীদের কাছে পুরো ঘটনার বিবরণ দেয়।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি পারিবারিকভাবে ও এলাকায় মীমাংসা করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে শিশুটির মা কোনো অনৈতিক আপসে রাজি না হয়ে গত ২০ অক্টোবর দৌলতপুর থানায় গিয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত এজাহার দায়ের করেন। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা নথিভুক্ত করে এবং ওই রাতেই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত শিক্ষককে পাকুড়িয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, শিশুটির মায়ের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কালবিলম্ব না করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং জড়িত শিক্ষকের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
“শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের শীর্ষ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। দৌলতপুরের এই ঘটনায় অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার সামাজিক অপচেষ্টা স্পষ্ট হলেও ভুক্তভোগীর মায়ের অনড় অবস্থান এবং পুলিশের ত্বরিত পদক্ষেপ দৃষ্টান্তমূলক। ধর্মীয় কিংবা সাধারণ যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ না করলে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা অসম্ভব।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



