মধ্যপ্রাচ্যে চরম অনিশ্চয়তা, কমছে প্রবাসী কর্মী পাঠানো
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক নীতির কারণে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে বিদেশে কর্মী যাওয়ার হার আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৩৩ শতাংশ কমে গেছে। বিশেষ করে প্রধান বাজার সৌদি আরবে কর্মী যাওয়া কমেছে প্রায় ৪৬ শতাংশ, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলেছে।
- চলতি বছরের ৯ মাসে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ কমেছে।
- প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরবে কর্মী গমন ৪৫ দশমিক ৮০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
- মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের কারণে সেখানে থাকা প্রায় ৬০ লাখ প্রবাসী কর্মী ঝুঁকিতে আছেন।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী আয়ের মূল ভিত্তি মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার এখন তীব্র অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান যুদ্ধ সংঘাত, বিভিন্ন দেশের নিজস্ব নীতি পরিবর্তন এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতার কারণে কর্মী নেওয়ার চাহিদা কমে গেছে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতের ওপর। ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রায় ৬০ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী বর্তমানে ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে কর্মী যাওয়ার সংখ্যায় বড় পতন ঘটেছে। গত বছরের প্রথম ৯ মাসে যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৮ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি কর্মী গিয়েছিলেন, সেখানে চলতি বছরের একই সময়ে তা নেমে এসেছে ৫ লাখ ৬৩ হাজারে। অর্থাৎ নয় মাসের ব্যবধানে বিদেশে কর্মী যাওয়া কমেছে ২ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি, যা শতকরা হিসাবে প্রায় ৩৩ শতাংশ কম। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরবে, যেখানে কর্মী যাওয়া কমেছে ৪৫ দশমিক ৮০ শতাংশ।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক শ্রমবাজারের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতাই আজকের এই সংকটের অন্যতম কারণ। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, লিবিয়া, বাহরাইন ও ওমানের মতো বড় বাজারগুলো বিভিন্ন সময় বন্ধ হয়েছে কিংবা সীমিত হয়ে পড়েছে। সৌদি আরব, কাতার ও কুয়েতেও কর্মী নিয়োগ কমছে। ফলে নতুন বাজার তৈরি না হওয়ায় পুরো জনশক্তি খাত সংকুচিত হয়ে পড়েছে। তবে সম্প্রতি মালয়েশিয়া ও জাপানে কিছু কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সামান্য আশার আলো দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকটকে সতর্কবার্তা হিসেবে নিয়ে বাংলাদেশকে এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। শুধু অদক্ষ শ্রমিক পাঠানোর পুরোনো ধারা থেকে বেরিয়ে এসে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি গড়ে তোলা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে ইউরোপ, পূর্ব এশিয়াসহ বিকল্প ও টেকসই শ্রমবাজার খোঁজার বিষয়ে সরকারকে আরও কার্যকর ও জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতা চালানোর পরামর্শ দিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
“মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় কাঠামোগত দুর্বলতা। বর্তমান সংকট চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্য যখন নিজস্ব নীতি ও আঞ্চলিক সংঘাতে ব্যস্ত, তখন বিকল্প বাজার তৈরি ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাই রেমিট্যান্সের টিকে থাকার একমাত্র চাবিকাঠি।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



