কুমিল্লায় শিক্ষকপুত্র অপ্রতিম হত্যায় চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের ৩১ দিনের মাথায় দেওয়া এই চার্জশিটে দুই কিশোরের নামও রয়েছে। দ্রুত বিচার শেষ করে দায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে শোকাহত পরিবার।
- অপ্রতিম হত্যা মামলায় সাইফুল ইসলাম তুহিন ও মো. সিয়ামসহ দুই কিশোরের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল।
- মরদেহ উদ্ধারের মাত্র ৩১ দিনের মধ্যে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিল সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ।
- সন্তান হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়া পরিবার দোষীদের দ্রুত ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের ঠিক ৩১ দিনের মাথায় গত মঙ্গলবার তদন্ত কর্মকর্তা চারজনের বিরুদ্ধে এই চার্জশিট জমা দেন। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপরাধের স্পষ্ট প্রমাণ মেলায় এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত চারজনের মধ্যে সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী। পরিকল্পনায় তার সঙ্গে মো. সিয়াম (১৯) নামের আরেক তরুণও যুক্ত ছিলেন। এছাড়া ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী আরও দুই কিশোরের নাম চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। শিশু আইনের বিধান অনুযায়ী ওই দুই অপ্রাপ্তবয়স্ককে শিশু হিসেবে চিহ্নিত করে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযোগপত্র দেওয়া হলেও বিচারের অপেক্ষায় দিন কাটছে নিহতের পরিবারের। মামলার বাদী ও অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, পুলিশ তাঁদের চার্জশিট দেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। বুকফাটা আর্তনাদ নিয়ে তিনি বলেন, সন্তানকে ঘিরেই তাঁদের সব স্বপ্ন ছিল। এখন একমাত্র প্রত্যাশা, আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে আদালত যেন জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি দেন।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, তদন্তে পাওয়া সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করেই নিরপেক্ষভাবে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এখন আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম শুরু করবেন। চাঞ্চল্যকর এই কিশোর হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা স্থানীয় নাগরিক ও সচেতন মহলের অন্যতম প্রধান দাবিতে পরিণত হয়েছে।
“কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার এই ঘটনাটি সামগ্রিক সামাজিক অবক্ষয়ের একটি ভয়ংকর দিক তুলে ধরেছে। এক মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দেওয়া পুলিশের একটি প্রশংসনীয় তৎপরতা, তবে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এড়ানো না গেলে অপরাধীদের দৃষ্টান্ত স্থাপন কঠিন হবে।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



