Read in English
পাঠক সুবিধা:
আন্তর্জাতিকঢাকা

কানাডা ভাঙার প্রস্তাবে আলবার্টায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের শক্ত ‘না’

চলতি ডেস্কআজ
১০ বার পঠিতপড়ার সময়: ২ মিনিট
এআই নিউরাল অডিও সংবাদ

১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

০০:০০গুগল নিউরাল অডিও ভয়েস০০:০০
কানাডা ভাঙার প্রস্তাবে আলবার্টায় বাংলাদেশি অভিবাসীদের শক্ত ‘না’
পূর্ণাঙ্গ ভিউ
ছবি: সংগৃহীত • চলতি নিউজ স্পেশাল কাভারেজ
একনজরে মূল বিষয় ও সারসংক্ষেপ

কানাডার আলবার্টা প্রদেশকে আলাদা দেশ করার প্রস্তাবে বড় ব্যবধানে হেরেছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। প্রায় ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার কানাডার অখণ্ডতার পক্ষে রায় দিয়েছেন। ক্যালগারিসহ বিভিন্ন শহরে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসীদের একাট্টা ভোটই কানাডাকে ভাঙনের হাত থেকে বাঁচিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ ৩টি তথ্য
  • আলবার্টার গণভোটে প্রায় ৭৫.৩ শতাংশ ভোট পড়েছে কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে।
  • ক্যালগারি ও প্রধান শহরগুলোর প্রবাসী ও বাংলাদেশি ভোটাররা বিচ্ছিন্নতার বিপক্ষে একাট্টা অবস্থান নেন।
  • গণভোটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো সেবায় অভিবাসী সুবিধা সীমিত করার প্রস্তাব পাস হওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপনটেক একাডেমি বাংলাদেশ

আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প

ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!

ভর্তি হতে ক্লিক করুন

কানাডার তেলসমৃদ্ধ প্রদেশ আলবার্টা কি মূল দেশ থেকে আলাদা হয়ে যাবে—এমন আশঙ্কার অবসান ঘটিয়েছেন সে দেশের ভোটাররা। প্রদেশের ১৪ শর বেশি কেন্দ্রের অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, প্রায় ৭৫ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পড়েছে অখণ্ড কানাডার পক্ষে। আর আলাদা হওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন মাত্র ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ। বিশেষ করে ক্যালগারি-এলবোর মতো প্রধান শহরগুলোতে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়েছে দেশের অখণ্ডতার পক্ষে। এই জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ও অন্যান্য অভিবাসী ভোটাররা।

আলবার্টার প্রাদেশিক সরকার সংবিধানে গণভোটের আইনি প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে ব্যালটের মাধ্যমে জনগণের মতামত যাচাই করে। প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজারের বেশি ভোটের বিশাল ব্যবধানে বিচ্ছিন্নতাবাদী পক্ষ পরাজিত হয়। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্রামীণ আলবার্টায় স্বাধীনতার পক্ষে কিছুটা সমর্থন থাকলেও শহরের ডায়াস্পোরা সমাজের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ভোটার সরাসরি কানাডা ভাঙার বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। ১৯৯৫ সালে কুইবেকের গণভোটের স্মৃতি মনে রেখে এবারও অভিবাসী নাগরিকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে অখণ্ডতার পক্ষে শক্ত অবস্থান নেন।

ফলাফল প্রকাশের পর বিচ্ছিন্নতার পক্ষে প্রচারণা চালানো প্রাদেশিক প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ জনগণের এই রায় মেনে নিয়েছেন এবং কানাডার অখণ্ডতার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। তবে গণভোটের মূল লড়াইয়ে অখণ্ডতা জিতলেও অভিবাসীদের কপালে নতুন দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কারণ এই ভোটের ব্যালটে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাদেশিক সামাজিক সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত পাঁচটি আলাদা প্রশ্ন ছিল। এর মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা কেবল স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে সীমিত রাখা এবং অস্থায়ী অভিবাসীদের ওপর বাড়তি ফি চাপানোর মতো প্রস্তাবগুলো ৫৪ থেকে ৬৪ শতাংশ সমর্থনে পাস হয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামী একটি জাতির নাগরিকেরা কেন আলবার্টার আলাদা হওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসীদের এই অবস্থান কোনো অঞ্চলের আত্মনিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে নয়, বরং তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার লড়াই। আলাদা হওয়ার পেছনের রাজনীতিতে যে অভিবাসনবিরোধী দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করছিল, তা বুঝতে পেরেই মূলত প্রবাসী বাংলাদেশিরা কানাডার ফেডারেল ব্যবস্থার পক্ষে দৃঢ় রায় দিয়েছেন।

চলতি নিউজ দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণ • নিরপেক্ষ এআই মতামত

“আলবার্টার গণভোট প্রমাণ করে যে অভিবাসী জনগোষ্ঠী এখন পশ্চিমা রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী শক্তি। কানাডা ভাঙার প্রচেষ্টা রুখে দেওয়ার মাধ্যমে ডায়াস্পোরা সম্প্রদায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তবে জনকল্যাণমূলক সেবা সীমিত করার প্রস্তাব পাস হওয়া ইঙ্গিত দেয় যে প্রাদেশিক পর্যায়ে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব এখনো বেশ গভীর।”

প্রতিবেদনটি বস্তুনিষ্ঠ সম্পাদকীয় নীতি ও মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করে প্রকাশিত।
চলতি ডিজিটাল নিউজরুম