ঈদগাঁও-বাইশারী সড়কে ৬০ গাড়িতে ডাকাতি: দুই থানার ঠ্যালাঠেলি বন্ধের দাবি
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

কক্সবাজারের ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কে দিনেদুপুরে দুই দফায় অন্তত ৬০টি গাড়িতে ডাকাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে গত ১৭ বছরে বহু খুন ও অপহরণ হলেও দুই জেলার থানাগুলোর দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতায় ক্ষোভ বাড়ছে।
- হিমছড়ি ঢালা এলাকায় সোমবার সকাল ও দুপুরে অন্তত ৬০টি যানবাহনে লুটপাট চালায় ডাকাত দল।
- ১৭ কিলোমিটার এই পাহাড়ি সড়কে গত ১৭ বছরে চারজন খুন ও ৫০টির বেশি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে।
- কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমানার কারণে অপরাধ ঘটলে এক থানা অন্য থানার ওপর দোষ চাপায়।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্তবর্তী ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কের হিমছড়ি ঢালা এলাকায় দিনেদুপুরে ঘটেছে ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা। গত সোমবার সকাল ও দুপুরে দুই দফায় অন্তত ৬০টি যানবাহনে লুটপাট চালায় সশস্ত্র ডাকাত দল। যাত্রীদের মারধর করে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়, এতে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পরিচিত একটি ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই তাণ্ডব চললেও সড়কে পুলিশের কোনো টহল ছিল না। প্রকাশ্য দিবালোকে এমন গণডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় যাত্রী ও চালকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাহাড়ি সড়কটিতে নিরাপত্তাহীনতা কোনো নতুন বিষয় নয়। স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ বছরে এই সড়কে অন্তত চারজন খুন হয়েছেন এবং অপহৃত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। নিহতদের মধ্যে একজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। এছাড়া অপহরণের শিকার অন্তত ২৩ জন মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। পুরো পথটি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি এবং কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার সীমানায় অবস্থিত হওয়ায় কোনো অপরাধ ঘটলেই এক থানা অন্য থানার ওপর দায় চাপিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকে বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাধারণ মানুষ।
ঘটনার পর পুলিশ দাবি করেছে যে ডাকাতির ঘটনায় কেউ এখনও আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দেননি। তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের অনিরাপদ এই সড়কে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি বা তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন অনেক আগেই হয়েছে, কিন্তু তা এখনো কার্যকর হয়নি। ফাঁড়ির ভবন নির্মাণের অপেক্ষায় না থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এখনই নিয়মিত ও হঠাৎ ঝটিকা টহল চালু করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় গড়ে ওঠা সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র, তাদের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্র এবং নেপথ্যের আশ্রয়দাতাদের খুঁজে বের করে কঠোর অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রশাসনিক সীমানার অজুহাতে নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে টালবাহানা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য ঈদগড় ও বাইশারীর হাজার হাজার মানুষের একমাত্র ভরসা এই পথটি। দীর্ঘদিন ধরে চলা আশ্বাসের পরিবর্তে এখন মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান সাধারণ মানুষ। দুই জেলার পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় ঘটিয়ে পাহাড়ি এ সড়কে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চিহ্নিত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের জোরালো দাবি।
“ঈদগাঁও-বাইশারী সড়কে বারবার ডাকাতি ও অপহরণের মূল কারণ ভৌগোলিক জটিলতা এবং দুই জেলার প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতা। ১৭ বছর ধরে রক্তক্ষয়ী ইতিহাস থাকার পরও স্থায়ী নিরাপত্তা চৌকি না থাকা চরম অবহেলার প্রমাণ। সীমানা ঠ্যালাঠেলি বন্ধ করে যৌথ টহল জোরদার করাই একমাত্র সমাধান।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



