আন্দোলনে আহতের মামলা করে ফাঁসলেন বাদী, মিলল সড়ক দুর্ঘটনা
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের হামলায় আহত হওয়ার অভিযোগ তুলে মামলা করেছিলেন জাফর আহমেদ নামের এক ব্যক্তি। তবে পুলিশের চূড়ান্ত তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, তিনি আসলে ঢাকার বিজয় সরণিতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন। পারিবারিক মাদ্রাসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে শিক্ষক ও কর্মচারীদের শায়েস্তা করতে তিনি এই সাজানো মামলা করেন। ফলে আসামিদের সবাইকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ।
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত হওয়ার দাবি করে ১৩ জনসহ অজ্ঞাত দেড় শতাধিক ব্যক্তির নামে মামলা করেন জাফর আহমেদ।
- তদন্তে পুলিশ প্রমাণ পেয়েছে, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই বিজয় সরণিতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন তিনি।
- মাদারীপুরের শিবচরে পারিবারিক কওমি মাদ্রাসার কর্তৃত্ব দখল করতেই শিক্ষক ও প্রতিপক্ষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেছিলেন জাফর আহমেদ নামের এক ব্যক্তি। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হামলার শিকার হয়ে পায়ে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে দাবি করে তিনি ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত প্রায় দেড়-দুইশত মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তবে পুলিশের দীর্ঘ তদন্তে বেরিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র। পুলিশ জানিয়েছে, আন্দোলনে হামলার কোনো ঘটনাই ঘটেনি, বরং ঢাকার বিজয় সরণি মোড়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়ে আহত হয়েছিলেন ওই ব্যক্তি।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, বাদীর বাবা ১৯৭০ সালে মাদারীপুরের শিবচরে 'আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া কওমী মাদ্রাসা' গড়ে তোলেন। বাবার মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা নিয়ে জাফর আহমেদের সঙ্গে তার মা, বড় ভাই এবং শিক্ষকদের তীব্র দ্বন্দ্ব শুরু হয়। স্বজন ও এলাকাবাসী তাকে পরিচালনা থেকে সরিয়ে দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি মাদ্রাসা কমিটির সঙ্গে বিরোধে জড়ান। সেই পারিবারিক বিরোধ ও ক্ষোভের জেরে মাদ্রাসা শিক্ষক ও কর্মচারীদের ফাঁসাতে ২০২৫ সালের ১৫ মার্চ এই মিথ্যা মামলার আশ্রয় নেন তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আকরামুজ্জামান জানান, এজাহারে উল্লেখিত দিন সকালে বিজয় সরণিতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে জাফর পরিচিত একজনকে ফোন করে গাড়ি বাসায় নিয়ে যেতে বলেছিলেন। তার চিকিৎসার কাগজপত্র ও সরকারি জুলাই গেজেট ঘেঁটে আন্দোলনে আহত হওয়ার কোনো সত্যতা মেলেনি। এজাহারে যাদের নাম দেওয়া হয়েছিল, ঘটনার সময় তাদের কেউই সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি সড়ক দুর্ঘটনার পর হুইলচেয়ারে মাদ্রাসায় এলে শিক্ষকরাই তাকে দোতলায় তুলে দিয়েছিলেন বলে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান।
ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এমন সাজানো মামলা করায় আসামিদের কোনো দোষ খুঁজে পায়নি পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের মামলা থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আগামী ২ নভেম্বর এই প্রতিবেদনের ওপর পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করেছেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
“জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ত্যাগ ও শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যখন দেশ নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি, তখন এমন মিথ্যা মামলা পুরো আন্দোলনের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ব্যক্তিগত কিংবা পারিবারিক সম্পত্তি দখলের বিরোধে জুলাই আন্দোলনের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুকে হাতিয়ার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রবণতা। পুলিশের নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তে সত্য উদঘাটিত হওয়ায় নিরপরাধ শিক্ষকেরা দীর্ঘমেয়াদি হয়রানি থেকে রক্ষা পেয়েছেন, যা বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াবে। একই সঙ্গে মিথ্যা মামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন যাতে আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে কেউ ফায়দা লুটতে না পারে।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



