পূজায় বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আনসারের বড় পদক্ষেপ, আটক ৪৯ জন
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

শারদীয় দুর্গোৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারাদেশে ১৩১টি অপ্রীতিকর ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে আনসার-ভিডিপি। এসব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে এবং ১৫টি শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাহিনীর চারজন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও ১৭ জন আহত বা অসুস্থ হয়েছেন।
- সারাদেশের ৩৩ হাজার ১৬৫টি পূজামণ্ডপে ২ লাখ ১২ হাজারের বেশি আনসার-ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করেন।
- প্রতিমা ভাঙার চেষ্টা, বিবাদ এবং মাদকসহ মোট ১৩১টি ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
- দায়িত্ব পালনকালে বাহিনীর চারজন সদস্য মারা গেছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৭ জন।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
সারাদেশে শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে কঠোর অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। উৎসব চলাকালীন বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় ঘটে যাওয়া মোট ১৩১টি অপ্রীতিকর ঘটনায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয় তারা। এসব ঘটনায় বিশৃঙ্খলা ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ২৪টি পৃথক স্থান থেকে ৪৯ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আনসার ও ভিডিপির গণসংযোগ শাখা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব তথ্য জানানো হয়।
বাহিনীর সদর দপ্তর জানায়, দেশের ৩৩ হাজার ১৬৫টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় মোট ২ লাখ ১২ হাজার ৮১৮ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে আনসার ব্যাটালিয়নের ১০৪টি বিশেষ দল বা স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়। উৎসবের দিনগুলোতে প্রতিমা ভাঙচুরের চেষ্টা ঠেকানো হয়েছে ২০টি ঘটনায়, স্থানীয় বিরোধ মেটানো হয়েছে ৩৬টিতে এবং আগুন দেওয়ার অপচেষ্টা ঠেকানো হয়েছে দুটি স্থানে। এ ছাড়া মাদক সংক্রান্ত ১৩টি ঘটনা এবং চুরির ঘটনায় ৬ জনকে আটকসহ ১৫টি হারিয়ে যাওয়া শিশুকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে দুঃখজনকভাবে বাহিনীর চারজন সদস্য দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন ঘটনায় আরও ১৭ জন সদস্য আহত ও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পুরো কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে 'শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ'-এর মাধ্যমে ৬৬ হাজার ৩৩০ জন নারী আনসার সদস্য সরাসরি যুক্ত থেকে সার্বক্ষণিক মণ্ডপের খবরাখবর সদর দপ্তরে পাঠিয়েছেন। ফলে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে মুহূর্তের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার পূজামণ্ডপ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি পূজা উদযাপন কমিটি এবং সাধারণ মানুষের সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই নিরাপত্তা অভিযানে বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে পেরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
“শারদীয় দুর্গোৎসবের মতো বৃহৎ জাতীয় ধর্মীয় উৎসবে আনসার-ভিডিপির প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারি এবং বিশাল সদস্য মোতায়েন সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। প্রতিমা ভাঙচুর বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে বড় ধরনের সংকট প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। দায়িত্বে থাকা অবস্থায় চারজন সদস্যের আত্মত্যাগ বাহিনীর নিষ্ঠার পরিচয় দেয়, যা ভবিষ্যতে যেকোনো জাতীয় উৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকবে।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



