Read in English
পাঠক সুবিধা:
জাতীয়ঢাকা

জলবায়ু ঝুঁকিতে বাংলাদেশে ঘরবাড়ি হারাতে পারে ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ

চলতি ডেস্কআজ
১০ বার পঠিতপড়ার সময়: ২ মিনিট
এআই নিউরাল অডিও সংবাদ

১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

০০:০০গুগল নিউরাল অডিও ভয়েস০০:০০
জলবায়ু ঝুঁকিতে বাংলাদেশে ঘরবাড়ি হারাতে পারে ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ
পূর্ণাঙ্গ ভিউ
ছবি: সংগৃহীত • চলতি নিউজ স্পেশাল কাভারেজ
একনজরে মূল বিষয় ও সারসংক্ষেপ

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ গৃহহীন বা বাস্তুচ্যুত হতে পারে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ। যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে ২১০০ সাল নাগাদ উপকূলীয় প্লাবনে ক্ষতির পরিমাণ মারাত্মক আকার ধারণ করবে।

গুরুত্বপূর্ণ ৩টি তথ্য
  • সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও সুপেয় পানির সংকটে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের ৭.৫ শতাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
  • ২১০০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ১ কোটি ৭৫ লাখ মানুষ উপকূলীয় প্লাবনের মুখে পড়তে পারে।
  • উপকূলীয় সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতায় সময়মতো অর্থ বিনিয়োগ করা গেলে ক্ষতির তুলনায় ২০ গুণ বেশি সুফল মিলবে।
বিজ্ঞাপনটেক একাডেমি বাংলাদেশ

আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প

ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!

ভর্তি হতে ক্লিক করুন

জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাবে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সুপেয় পানির সংকট এবং কৃষিজমির ক্ষতির কারণে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ নিজেদের ভিটেমাটি হারাতে পারে। এটি দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় সাড়ে ৭ শতাংশ। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) এক নতুন বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নদী অববাহিকা ও উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে রয়েছেন।

এডিবির প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন বর্তমান হারে চলতে থাকলে এই শতকের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ১ কোটি ৭৫ লাখ মানুষ উপকূলীয় প্লাবনের কবলে পড়বে। বিশ্বজুড়ে ২০৫০ সালের মধ্যে উপকূলীয় বন্যায় আক্রান্ত হতে পারে ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ, যা ২১০০ সাল নাগাদ বেড়ে ১০ কোটি ৮০ লাখে পৌঁছাতে পারে। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মতো দেশগুলোতে মূলত দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীই এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রথম ও প্রধান শিকার হয়, যার ফলে তাদের দারিদ্র্যের বোঝা আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়।

বিশাল এই বিপদের পাশাপাশি দুর্যোগ সামাল দেওয়ায় বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রশংসাও করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কবার্তা এবং বহুমুখী সাইক্লোন শেল্টার তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি দারুণ দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্র উপকূলের মানুষের প্রাণ বাঁচাতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তবে ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটি দ্রুত স্থানীয়ভাবে মানিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা, সুন্দরবনসহ উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন রক্ষা এবং জলবায়ু তহবিল বাড়ানোর জোর সুপারিশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যথাযথ বাঁধ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা না নিলে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বন্যাজনিত বার্ষিক আর্থিক ক্ষতি ২০৫০ সালের মধ্যে ছয় গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। বর্তমানে এ অঞ্চলে প্রতি বছর প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়, যা ভবিষ্যতে শত শত বিলিয়নে ঠেকবে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, উপকূলীয় সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় অর্থ বিনিয়োগ করা হলে ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া সম্ভব।

চলতি নিউজ দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণ • নিরপেক্ষ এআই মতামত

“এডিবির এই সতর্কবার্তা বাংলাদেশের মতো নিম্নভূমির দেশের জন্য নতুন কোনো পূর্বাভাস না হলেও সংখ্যাটির ভয়াবহতা নীতি-নির্ধারকদের জন্য এক বিরাট সতর্কবার্তা। কার্যকর ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল সংগ্রহে দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো এখন সময়ের দাবি।”

প্রতিবেদনটি বস্তুনিষ্ঠ সম্পাদকীয় নীতি ও মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করে প্রকাশিত।
চলতি ডিজিটাল নিউজরুম