সড়কে মৃত্যুর মিছিল: এক বছরে প্রাণ হারালেন ৯ হাজারের বেশি মানুষ
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

দেশে কোনোভাবেই থামছে না সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। যাত্রীকল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ বছরে সারা দেশে সড়কে ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কেবল গত বছরই ৬ হাজার ৭২৯টি দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণ গেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। এমন বাস্তবতায় আজ পালিত হচ্ছে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস।
- গত ১৩ বছরে দেশে ৭২ হাজার ৭৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ লাখ ২৫ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
- ২০২৫ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৯৮৩ জন মারা গেছেন, যা মোট মৃত্যুর ৩৮ শতাংশেরও বেশি।
- রাজধানী ঢাকায় পথচারীদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি; গত কয়েক বছরে ঢাকায় ১ হাজার ৩৮৪ জন নিহত হয়েছেন।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
দেশের সড়ক ও মহাসড়কে প্রতিদিন ঝরছে তাজা প্রাণ, আর পঙ্গুত্ব বরণ করে নিঃস্ব হচ্ছেন হাজারো মানুষ। গাড়ির বেপরোয়া গতি, বিপজ্জনক ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করার মানসিকতায় সড়ক এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র—গত ১৩ বছরে দেশে ৭২ হাজার ৭৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার জন, আর আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৭৬ হাজার মানুষ। এর মধ্যে গত বছর দুর্ঘটনা বেড়েছে প্রায় ৭ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ হাজার ১১১ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। মোট ২ হাজার ৪৯৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৯৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা সামগ্রিক প্রাণহানির ৩৮ শতাংশেরও বেশি। এদিকে রাজধানী ঢাকা পথচারীদের জন্য সবচেয়ে অনিরাপদ শহরে পরিণত হয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ঢাকায় হওয়া সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের ৮০ শতাংশেরও বেশি সাধারণ পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহী। রাতে এবং ভোরবেলায় ফাঁকা রাস্তায় দ্রুতগতির কারণে মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে।
এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—'নিরাপদ সড়ক, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ'। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সরকার ইতিমধ্যে নতুন সড়ক নিরাপত্তা আইনের খসড়া প্রস্তুত করেছে। প্রস্তাবিত এই আইনে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের বিনা মূল্যে জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করা, সহায়তাকারীদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া এবং ট্রাফিক আইন ভাঙলে চালকদের ডিমেরিট পয়েন্ট কাটা ও বারবার আইন অমান্যকারীদের ক্ষেত্রে দ্বিগুণ জরিমানার মতো কঠোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইন করলেই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে না; সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। রাজধানীতে যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, কুড়িল ও বিমানবন্দর সড়কের মতো জায়গাগুলো এখন দুর্ঘটনার মূল হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, ধীরগতির ও দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেন করা এবং চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া না গেলে এই মৃত্যুর মিছিল থামানো কঠিন হবে।
“সড়ক দুর্ঘটনা এখন আর নিছক কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং কাঠামোগত দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনার একটি বড় প্রমাণ। ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লাইসেন্সহীন চালক এবং দুর্বল তদারকির কারণে বছরের পর বছর সড়ক রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠছে। নতুন প্রস্তাবিত আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং চালক-পথচারী উভয়ের মধ্যে ট্রাফিক শিষ্টাচার গড়ে তোলাই পারে সড়কের এই লাগামহীন মৃত্যুর মিছিল থামাতে।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



