পশ্চিমবঙ্গে তন্ত্রসাধনার নামে স্ত্রী ও বাবাকে গলা কেটে হত্যা
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ায় মহাঅষ্টমীর রাতে তন্ত্রসাধনার নামে নিজের স্ত্রী ও বাবাকে কুড়াল দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছেন এক ব্যক্তি। হত্যার পর স্ত্রীর কাটা মাথা নিয়ে মন্দিরে যাওয়ার সময় অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ।
- পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় মহাঅষ্টমীর রাতে জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
- অভিযুক্ত মঙ্গল চৌধুরী নিজের স্ত্রী ও বাবাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
- হত্যার পর স্ত্রীর বিচ্ছিন্ন মাথা মন্দিরের বেদিতে রেখে আসে অভিযুক্ত এবং পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় মহাঅষ্টমীর সন্ধ্যায় এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তন্ত্রসাধনার নামে নিজের স্ত্রী রম্পা চৌধুরী ও বাবা রাজেন্দ্র চৌধুরীকে কুড়াল দিয়ে গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন মঙ্গল চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি। হত্যাকাণ্ডের পর স্ত্রীর বিচ্ছিন্ন মাথা হাতে নিয়ে মন্দিরে যেতে দেখে স্থানীয় মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সোনামুখী থানার পুলিশ দ্রুত এসে অভিযুক্তকে আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাঅষ্টমী ও মহানবমীর সন্ধিক্ষণে সন্ধিপূজার সময় দেবীকে নরবলি দেওয়ার অন্ধবিশ্বাস থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। অভিযুক্ত মঙ্গল নিজের বাবাকে বাড়ির উঠানে এবং স্ত্রীকে ঘরের ভেতর কুপিয়ে হত্যা করেন। এরপর নিজের একটি আঙুল কেটে সেই রক্ত স্ত্রীর কাটা মাথায় মাখিয়ে স্থানীয় একটি মন্দিরের বেদিতে উৎসর্গ করেন। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা কুড়াল ও বাবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় চরম চাঞ্চল্য তৈরি হলে অভিযুক্তকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাঁকুড়া আদালতে তোলে পুলিশ। আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত স্বীকার করেছে যে তন্ত্রসাধনার অংশ হিসেবেই সে এই জোড়া খুন করেছে। ঘটনার পেছনে স্থানীয় কোনো তান্ত্রিক বা পুরোহিতের উসকানি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তল্লাশি শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সন্ধিপূজার সময়ে প্রতীকী বলি হিসেবে চালকুমড়ো বা আখ বলি দেওয়ার চল থাকলেও, এমন চরম অন্ধবিশ্বাস ও নির্মমতায় হতবাক স্থানীয় সমাজ। অন্ধ কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
“আধুনিক যুগেও তন্ত্রসাধনা ও কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড চরম সামাজিক অবক্ষয়ের প্রমাণ। ধর্মীয় আচার ও প্রতীকী রীতির ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে অন্ধবিশ্বাস ছড়ানো প্রতিরোধে কঠোর প্রশাসনিক ও সামাজিক নজরদারি প্রয়োজন।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



