যৌথ পরিবারের জমি বন্ধক রেখে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন, নজরুলের প্রাণ গেল যুদ্ধক্ষেত্রে
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

নজরুল ইসলাম, পবিত্র চন্দ্র ও আমিনুর ইসলাম—তিনজনেরই গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ভিন্ন ভিন্ন গ্রামে। তিনজনই দরিদ্র পরিবারের সন্তান।
- নজরুল ইসলাম, পবিত্র চন্দ্র ও আমিনুর ইসলাম—তিনজনেরই গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ভিন্ন ভিন্ন গ্রামে।
- তিনজনই দরিদ্র পরিবারের সন্তান।
- কেউ ঋণ নিয়ে, কেউ জমি বন্ধক রেখে কাজের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
নজরুল ইসলাম, পবিত্র চন্দ্র ও আমিনুর ইসলাম—তিনজনেরই গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ভিন্ন ভিন্ন গ্রামে। তিনজনই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। কেউ ঋণ নিয়ে, কেউ জমি বন্ধক রেখে কাজের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়া এই তিনজনের কারও ভাগ্যেই কাজ জোটেনি, উল্টো বাধ্য হয়ে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে ‘টোপ’ হিসেবে ব্যবহৃত হতে হয়েছে তাঁদের। সেখানে তিনজনেরই মৃত্যু হয়েছে ড্রোন হামলায়। কাজের জন্য রাশিয়ায় গিয়ে প্রতারিত ৩০ জন তরুণ–যুবকের মধ্যে যে ২০ জন যুদ্ধক্ষেত্রে মারা গেছেন, তাঁদের মধ্যে এই ৩ জনও রয়েছেন। নিহত নজরুল ইসলামের ভাতিজা মোহাম্মদ শিহাব প্রথম আলোকে বলেন, চাচার সঙ্গে সর্বশেষ তাঁদের কথা হয় গত ২৯ জুলাই। নজরুল বলেছিলেন, ‘আমাদের যুদ্ধে পাঠায় দিচ্ছে। আমার মাকে দেখে রাখিস, সন্তানদের দেখে রাখিস।
’ পরে তাঁর সঙ্গে রাশিয়ায় যাওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে মৃত্যুর খবর পায় পরিবার। নজরুল ইসলামরা দুই ভাই, তিন বোন। তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। দুই ভাই যৌথ পরিবারে একসঙ্গে থাকতেন। উত্তরাধিকার সূত্রে তাঁরা যে জমি পেয়েছেন, তা এখনো ভাগ–বাঁটোয়ারা হয়নি। সেই জমি স্থানীয় একজন ব্যক্তির কাছে বন্ধক রেখে নজরুলকে ৯ লাখ টাকা দিয়েছিলেন বড় ভাই। সেই টাকা দিয়েই নজরুল রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। এর আগে তিনি সৌদি আরবেও গিয়েছিলেন। নজরুলের ভাতিজা বলেন, রাশিয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে চাচার মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় পৌঁছানোর পর এখন জমি বন্ধক রাখা ব্যক্তি টাকা ফেরত দিতে না পারলে টাকার সমপরিমাণ জমি দিয়ে দেওয়ার কথা বলছেন।
তিনি জানান, ৪০ বছর বয়সী নজরুল দুবার বিয়ে করেছিলেন। প্রথম ঘরে তাঁর দুই ছেলে আছে। একজনের বয়স ১৫ বছর, অন্যজনের ১০ বছর। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হলেও সন্তানদের খোঁজখবর রাখতেন তিনি। তবে নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী ও তাঁর দুই সন্তান খুবই করুণ অবস্থায় দিন পার করছেন। এই ঘরে সোয়া এক বছর বয়সের একটি মেয়ে ও ছয় মাসের একটি ছেলে আছে তাঁর। পরিবার সূত্রে জানা যায়, নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী ও দুই সন্তান এখনো যৌথ পরিবারেই থাকছেন। কিন্তু নজরুলের বড় ভাইয়ের আর্থিক অবস্থাও ভালো নয়। তিনি একসময় ঢাকায় সবজির ব্যবসা করতেন, কিছুদিন রিকশাও চালিয়েছেন।
এখন বাড়িতেই থাকছেন। যৌথ পরিবারের জমি বন্ধক থাকায় কিছু করতেও পারছেন না। টাকা ফেরত দিয়ে জমি উদ্ধার করার মতো অবস্থাও তাঁর নেই। নজরুলের পরিবারের মতোই কষ্টে জীবন যাপন করছে পবিত্র চন্দ্রের পরিবার। হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান পবিত্র পেশায় ছিলেন কাঠমিস্ত্রি। স্ত্রীর স্বর্ণালংকার বিক্রির কিছু অর্থ আর একটি বেসরকারি সংস্থা ও স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সৌভাগ্যের সন্ধানে পাড়ি জমিয়েছিলেন রাশিয়ায়। তাঁকেও জোর করে পাঠানো হয় রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে। বেঁচে যাওয়া সঙ্গীদের কাছ থেকে পরিবার খবর পেয়েছে, যুদ্ধক্ষেত্রে পবিত্রর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু মৃত্যুশোকের সঙ্গে এখন পরিবারটিকে তাড়া করছে পাওনাদারদের অব্যাহত তাগাদা।
“আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় সংঘাত ও অর্থনৈতিক অবরোধ পরিহার করে টেকসই কূটনৈতিক সংলাপের বিকল্প নেই। বেসামরিক জনগণের জানমাল রক্ষা ও অবাধ মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করাই বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ দায়িত্ব।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



