পাকিস্তান ও অনারব মুসলমানদের নিয়ে নাইপলের বিতর্কিত বই
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

নোবেলজয়ী লেখক ভি এস নাইপলের 'বিয়ন্ড বিলিফ' বইটিতে পাকিস্তানসহ অনারব মুসলিম দেশগুলো নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর বুদ্ধিজীবী মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এডওয়ার্ড সাইদ এবং তপন রায়চৌধুরী এই বইকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন।
- পাকিস্তান, ইরান, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে 'বিয়ন্ড বিলিফ' বইটি লিখেছিলেন ভি এস নাইপল।
- বইটিতে অনারব মুসলমানদের 'ধর্মান্তরিত' বলে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি হারানোর একপেশে তত্ত্ব তুলে ধরেন লেখক।
- বিশ্বখ্যাত চিন্তাবিদ এডওয়ার্ড সাইদ এবং ইতিহাসবিদ তপন রায়চৌধুরী নাইপলের দৃষ্টিভঙ্গিকে পুরোপুরি ভ্রান্ত ও অবমাননাকর বলে আখ্যা দেন।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
নোবেলজয়ী সাহিত্যিক ভি এস নাইপলের 'বিয়ন্ড বিলিফ' গ্রন্থটি বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয়। পাকিস্তান, ইরান, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো অনারব মুসলিম দেশগুলো ভ্রমণ করে তিনি এই বইটি লেখেন। বিশেষ করে পাকিস্তানের সমাজ ও রাজনীতি নিয়ে তিনি আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। একাত্তরে বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকেও একই ধরনের অপবাদের মুখোমুখি হতে হতো বলে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ ও লেখালেখির ঢং নিয়ে বিভিন্ন দেশের পাঠক ও গবেষকদের মাঝে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়।
নাইপল তাঁর বইয়ের উপশিরোনাম দিয়েছিলেন 'ইসলামিক এক্সকারশনস অ্যামং দ্য কনভার্টেড পিপল'। তাঁর প্রধান যুক্তি ছিল, ইসলামের সূচনা আরবে হওয়ায় অনারব যে কোনো মুসলমান মূলত ধর্মান্তরিত। তিনি দাবি করেন, ধর্মান্তরিত হওয়ার পর একজন মানুষের নিজস্ব ইতিহাস ও ভাষার চেয়ে আরব ঐতিহ্য বড় হয়ে ওঠে। নাইপলের এই পর্যবেক্ষণকে অনেক সমালোচক কেবল একপেশে নয়, বরং উপনিবেশবাদী মানসিকতার প্রতিফলন বলেও মনে করেন।
এই তত্ত্বের তীব্র বিরোধিতা করেন খ্যাতিমান প্রাচ্যবিশারদ এডওয়ার্ড সাইদ। তিনি বইটিকে অত্যন্ত দুর্বল ও হাস্যকর যুক্তি হিসেবে খারিজ করে দেন। সাইদের মতে, কেবল আরবরাই খাঁটি মুসলমান আর অন্যরা কৃত্রিম—এমন যুক্তি দেওয়া আর শুধু রোমের মানুষই খাঁটি ক্যাথলিক বলা একই ধরনের বোকামি। অন্যদিকে বিখ্যাত ইতিহাসবিদ তপন রায়চৌধুরীও নাইপলের সমালোচনা করে বলেন, লেখক নিজেই একধরনের সংকীর্ণ মানসিকতা নিয়ে ইসলাম ও এর বিভিন্ন রূপকে বিচার করেছেন।
নাইপলের বই নিয়ে সমালোচনা সত্ত্বেও এটি অনারব মুসলিম দেশগুলোর পরিচয় সংকট নিয়ে বিতর্কের নতুন দিক উন্মোচন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ধর্ম ও স্থানীয় সংস্কৃতির মিশ্রণ একেক অঞ্চলে একেক রূপ ধারণ করে। বিশ্বায়নের এই যুগে সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের সম্পর্ক বোঝার জন্য নাইপলের এই বিতর্কিত লেখাটি এখনো তুলনামূলক সাহিত্য ও রাজনীতিতে একটি আলোচিত বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
“নাইপলের এই বই সাহিত্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হলেও এটি লেখকদের পক্ষপাতদুষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির বিপদকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। সংস্কৃতি ও ধর্মের মেলবন্ধনকে একপেশেভাবে বিচার না করে বাস্তবসম্মত দৃষ্টিতে দেখাই ইতিহাসবিদদের মূল দায়িত্ব।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



