চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে: সংসদে কেন আলোচনা হলো না
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ১৫ বছরের জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে দেশের এত বড় জাতীয় অর্থনৈতিক সম্পদ নিয়ে সংসদে কোনো আলোচনা বা বিতর্ক না হওয়ায় জনস্বার্থ ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
- চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
- চুক্তিতে ১৫ কোটি ডলার বিনিয়োগের কথা থাকলেও সংসদে কোনো খোলামেলা আলোচনা হয়নি।
- শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ, জাতীয় নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক লাভ-ক্ষতি নিয়ে স্বচ্ছতার তাগিদ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
দেশের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)। দীর্ঘ ১৫ বছরের জন্য টার্মিনালটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে। আধুনিক প্রযুক্তি আনা ও বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, দেশের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় সংসদে বিষয়টি নিয়ে কোনো আলোচনা না হওয়ায় বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য বলছে, টার্মিনাল আধুনিকায়ন ও পরিচালনায় প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। এর মধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ এককালীন পাবে পাঁচ কোটি ডলার। পাশাপাশি কনটেইনার খালাস থেকে হওয়া আয়ের ৪০ থেকে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত রাজস্ব পাওয়ার শর্ত রয়েছে। তবে চুক্তির মেয়াদ পরবর্তী দেড় দশক ধরে বলবৎ থাকবে। এত দীর্ঘ সময়ের একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তের শর্তাবলি ও লাভ-ক্ষতির হিসাব কেন জনগণের প্রতিনিধিদের সামনে তোলা হলো না, তা এখন বড় প্রশ্ন।
বন্দরে জাহাজের দীর্ঘ জট কমানো ও আন্তর্জাতিক মানের সেবা পাওয়ার জন্য দক্ষ অপারেটরের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কিন্তু বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশি বিনিয়োগের বিরোধিতা না করেও চুক্তির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যেত। সাধারণ শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ, দেশের নিজস্ব সম্পদের নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চুক্তির আগে প্রকাশ্যে যাচাই করা উচিত ছিল বলে মত অর্থনীতিবিদদের।
যেকোনো বড় রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেসরকারি বা বিদেশি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহি সবচেয়ে জরুরি শর্ত। আইনগতভাবে চুক্তি করা হলেও সংসদের মতো জায়গায় খোলামেলা আলোচনা হলে জনমনে কোনো সংশয় তৈরি হতো না। তাই দেশের স্বার্থ শতভাগ অক্ষুণ্ণ রাখতে এই চুক্তির প্রতিটি ধাপের বাস্তবায়ন গভীরভাবে নজরদারিতে রাখার দাবি উঠেছে।
“চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে দেওয়াকে নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বন্দর কেবল রাজস্বের উৎস নয়, এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রধান প্রবেশদ্বার। সংসদে আলোচনা এড়িয়ে এমন দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি চূড়ান্ত করায় স্বচ্ছতার ঘাটতি প্রকট হয়ে উঠেছে, যা ভবিষ্যতে নজির হিসেবে বিতর্কিত হতে পারে।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



