জ্বালানি সংকটে বড় ঝুঁকিতে দেশের তৈরি পোশাক খাত
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

বৈশ্বিক অস্থিরতা ও তীব্র অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত নজিরবিহীন চাপে পড়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যয়বহুল ডিজেলে কারখানা চালাতে গিয়ে উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে।
- শিল্পে গ্যাসের দাম প্রায় ১৫০ শতাংশ ও ডিজেলের দাম ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
- সারাদেশে বিদ্যুতের ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাওয়ায় উৎপাদনে ছন্দপতন ঘটছে।
- উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও আন্তর্জাতিক ক্রেতারা তৈরি পোশাকের দাম বাড়াতে চাইছেন না।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
ঢাকার সাভার-আশুলিয়ার তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে প্রতিদিন ব্যস্ত কর্মযজ্ঞ চললেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ছন্দপতন ঘটছে। বড় বড় কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাধ্য হয়ে ডিজেলচালিত জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। হা-মীম গ্রুপের মতো শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের চেয়ে এখন বিকল্প জ্বালানির ওপরই তাদের বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত খরচের এই বিকল্প ব্যবস্থা দীর্ঘ মেয়াদে চালিয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে, যেখানে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশে শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বেড়েছে ১৫০ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম দফায় দফায় বাড়ায় সামগ্রিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বহুগুণ বাড়লেও বিদেশি ক্রেতারা পণ্যের বাড়তি দাম দিতে রাজি না থাকায় চরম আর্থিক টানাপোড়েনে পড়েছেন মালিকেরা।
রাজধানী ঢাকাসহ শিল্পাঞ্চলগুলোতে জাতীয় পর্যায়ের লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। সংকট মোকাবিলায় সরকার বাণিজ্যিক এলাকায় আলোকসজ্জা সীমিত করা এবং দোকানপাট দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছে। গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও নাজুক, যেখানে দিনে বহু ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, দেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে অবহেলা এবং অতিমাত্রায় আমদানিনির্ভরতার ফলেই বৈশ্বিক বাজারের সামান্য অস্থিরতা দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্ব ভূরাজনীতির টানাপোড়েনের মধ্যে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে হলে দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও স্থানীয় প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনে জোর না দিলে রপ্তানিমুখী এ শিল্প প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাতে পারে। পোশাক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের জীবিকার ওপর।
“আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতি দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি তৈরি পোশাক খাতকে সংকটে ফেলছে। সংকট কাটাতে নিজস্ব সম্পদ আহরণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



