এমপির ভুয়া ভাতিজা সেজে সাংবাদিকদের গাড়িতে চাঁদাবাজির চেষ্টা যুবদল নেতার
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করেছেন আসাদুজ্জামান বিপ্লব নামের এক সাবেক যুবদল নেতা। নিজেকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাতিজা দাবি করলেও এমপি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তাঁর কোনো ভাতিজা নেই এবং প্রশাসনকে ইজারা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
- নবীনগরে পেশাগত দায়িত্বে থাকা সাংবাদিকদের গাড়ি আটকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করা হয়।
- অভিযুক্ত যুবদল নেতা আসাদুজ্জামান বিপ্লব নিজেকে সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের ভাতিজা বলে পরিচয় দেন।
- ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে এমপি আব্দুল মান্নান নিশ্চিত করেছেন তাঁর কোনো ভাতিজা নেই এবং ইজারা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে পেশাগত কাজে যাওয়ার পথে কয়েকজন টেলিভিশন সাংবাদিকের গাড়ি আটকে চাঁদা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। শুক্রবার দুপুরে নবীনগর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের আলীয়াবাদ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান বিপ্লব নবীনগর পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পৌরসভার টোল আদায়ের নামে সাংবাদিকদের পথ আটকে হেনস্তা করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেলিভিশন সাংবাদিকদের একটি দল সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মাইক্রোবাসযোগে উপজেলার ধরাভাঙ্গা গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে আলীয়াবাদ মোড়ে এক ব্যক্তি গাড়িটি থামিয়ে পৌরসভার ইজারার টাকা দাবি করেন। সাংবাদিকরা নিজেদের পেশাগত পরিচয় দেন এবং নিয়ম অনুযায়ী গণমাধ্যম জরুরি পরিষেবার আওতাভুক্ত থাকায় টোলমুক্ত থাকার কথা জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ব্যক্তি যুবদল নেতা আসাদুজ্জামান বিপ্লবকে ডেকে নিয়ে আসেন।
ঘটনাস্থলে এসে বিপ্লব সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং অশোভন আচরণ শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের হুমকি ও মারধরের চেষ্টা চালান। নিজেকে ক্ষমতাধর প্রমাণ করতে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের আপন ভাতিজা বলে দাবি করেন। প্রকাশ্য দিবালোকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদা আদায়ের এই চেষ্টায় স্থানীয় পথচারী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, তাঁর কোনো ভাতিজাই নেই এবং অপরাধী তার নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। তিনি নবীনগর পৌরসভা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ওই পয়েন্টের ইজারা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক রাকিবুল ইসলামও ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
“পৌরসভার ইজারা আদায়ের নামে সড়কপথে গণমাধ্যমকর্মীদের হেনস্তা ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা স্থানীয় সুশাসনের চরম ঘাটতিকে ফুটিয়ে তোলে। নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সংসদ সদস্যের তাৎক্ষণিক কঠোর অবস্থান এবং ইজারা বাতিলের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অত্যন্ত প্রশংসনীয় হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



