ফেনীতে চালককে কুপিয়ে অটোরিকশা ছিনতাই, হাসপাতালে মৃত্যু
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় যাত্রীবেশে অটোরিকশায় উঠে চালক আবদুল হককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গাড়ি ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
- চাঁদগাজী বাজার থেকে যাত্রীবেশে উঠে বাংলা বাজার এলাকায় নির্জন সড়কে চালকের ওপর হামলা চালানো হয়।
- ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত আবদুল হককে ফেলে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।
- কিস্তিতে ঋণ নিয়ে কেনা অটোরিকশা হারিয়ে ও একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় যাত্রীবেশে উঠে আবদুল হক (৪৫) নামের এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তার বাহনটি ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। রক্তাক্ত অবস্থায় দীর্ঘ সময় পড়ে থাকার পর উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত আবদুল হক উপজেলার মাটিয়াগোদা গ্রামের মৃত ওসমান হাওলাদারের ছেলে। তার সংসারে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে স্বজনেরা এখন শোকে ভেঙে পড়েছেন।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত আনুমানিক নয়টার দিকে উপজেলার চাঁদগাজী বাজার থেকে কয়েকজন যাত্রী সেজে পাঠাননগর বাজারে যাওয়ার জন্য আবদুল হকের অটোরিকশাটি ভাড়া করে। গাড়িটি বাংলা বাজার এলাকার নির্জন সড়কে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা চালকের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে দ্রুত অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পথচারীরা তাকে দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু তাহের জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুমূর্ষু অবস্থায় আবদুল হককে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোর ছয়টায় তার মৃত্যু হয়। নিহতের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর জখম রয়েছে। পুলিশ জড়িত ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
স্থানীয় সাবেক জনপ্রতিনিধি আবদুল কাইয়ুম জানান, মাত্র কয়েক মাস আগে বিভিন্ন সমিতি থেকে কিস্তিতে ঋণ নিয়ে আবদুল হক এই অটোরিকশাটি কিনেছিলেন। সেই উপার্জনেই চলত পাঁচ সদস্যের সংসার এবং পরিশোধ হতো ঋণের কিস্তি। গাড়িটি ছিনতাই হওয়া এবং আবদুল হকের নির্মম মৃত্যুতে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তা ও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। গ্রামবাসী এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং এলাকায় রাতের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
“যাত্রীবেশে চালককে হত্যা করে বাহন ছিনতাইয়ের ঘটনা গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। বিশেষ করে নির্জন সড়কগুলোতে রাতের বেলা টহল জোরদার না থাকায় প্রায়ই সাধারণ চালকেরা অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। কিস্তিতে কেনা বাহন হারিয়ে একটি দরিদ্র পরিবার যাতে সম্পূর্ণ নিঃস্ব না হয়, সেজন্য দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



