উজিরপুরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, পালানোর সময় ৯ জন গ্রেপ্তার
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

বরিশালের উজিরপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাওছার হাওলাদার নামের এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। হামলার পর পালিয়ে যাওয়ার সময় পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা থেকে একটি মাইক্রোবাসসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
- তুচ্ছ বিরোধের জেরে বাড়িতে ঢুকে কাওছার হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ।
- প্রাণ বাঁচাতে পাশের বিলে ঝাঁপ দিয়েও রক্ষা পাননি নিহত কাওছার।
- পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজায় অভিযান চালিয়ে একটি মাইক্রোবাসসহ অভিযুক্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
বরিশালের উজিরপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের কোপে কাওছার হাওলাদার (৩৮) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার সাতলা-কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। এ হামলায় রাশেদ আমিন হাওলাদার নামের আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত কাওছার স্থানীয় মৃত মোনাফছের হাওলাদারের ছেলে এবং পেশায় মোটরসাইকেল চালক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে সাতলা একতা বাজারে সামান্য বিষয় নিয়ে কাওছার ও আশিকুল হাওলাদারের সঙ্গে প্রতিপক্ষ নান্না মোল্লা ও স্বজল মোল্লাদের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চললেও রাতের দিকে ঢাকা ও বরিশাল থেকে মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলে করে একদল সশস্ত্র লোক এলাকায় আসে। রাত ১০টার দিকে কাওছার ও রাশেদের ওপর হামলা চালানো হলে তারা জীবন বাঁচাতে পাশের বিলে ঝাঁপ দেন এবং পরে সড়কের পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। তবে হামলাকারীরা ওই বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে কাওছারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় বাসিন্দারা কাওছার ও রাশেদকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে এবং পরে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক কাওছারকে মৃত ঘোষণা করেন। রাশেদ আমিন দরজার আড়ালে লুকিয়ে কোনোমতে প্রাণে রক্ষা পান। পরে ময়নাতদন্তের জন্য কাওছারের মরদেহ গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই অপরাধীদের ধরতে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রাতেই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা এলাকায় ঘেরাও করে একটি মাইক্রোবাসসহ অভিযুক্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে এবং নিহত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
“তুচ্ছ ব্যক্তিগত বিরোধ মুহূর্তের মধ্যে চরম সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডে রূপ নেওয়ার ঘটনা সামাজিক অসহিষ্ণুতার উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে। তবে অপরাধ ঘটিয়ে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালানোর সময় পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা থেকে পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযানে ৯ জন ধরা পড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দক্ষতার বড় প্রমাণ। এই দ্রুত পদক্ষেপ স্থানীয় উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করবে, তবে এ ধরনের সংঘবদ্ধ হামলা ঠেকাতে গ্রামপর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর উদ্যোগ ও অস্ত্র উদ্ধার জরুরি।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



