অরুণাচলে বাঁধ নির্মাণের প্রতিবাদে তুমুল বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং জেলায় প্রস্তাবিত বহুমুখী বাঁধ প্রকল্পের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশ ও যৌথ বাহিনীর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনগুলোর ডাকে চলা বনধের সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে, যাতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
- আপার সিয়াং বহুমুখী বাঁধ প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় আদিবাসী সংগঠনগুলো তীব্র আন্দোলন শুরু করেছে।
- বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসে অন্তত ছয় নারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
- আন্দোলনকারীরা গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের মুক্তি ও এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
চীন সীমান্তবর্তী ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং এলাকায় প্রস্তাবিত একটি বৃহৎ বহুমুখী বাঁধ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরম রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্য সরকার পুলিশ ও আধা সামরিক যৌথ বাহিনী মোতায়েন করলে শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করায় অন্তত ছয়জন নারী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং অনেকে তীব্র শ্বাসকষ্টে ভোগেন।
আদি বানে কেবাং এবং সিয়াং ইন্ডিজেনাস ফার্মার্স ফোরামসহ স্থানীয় আদিবাসীদের কয়েকটি সংগঠন ২৩ অক্টোবর ওই অঞ্চলে ১২ ঘণ্টার সর্বাত্মক ধর্মঘটের ডাক দেয়। তাদের আন্দোলনের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—গ্রেপ্তার করা ১০ জন আন্দোলনকারীকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া, বরখাস্ত হওয়া ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ প্রধানদের পুনর্বহাল করা, বাঁধের সমীক্ষামূলক সব কাজ বন্ধ রাখা এবং এলাকা থেকে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহার করা। ধর্মঘটের কারণে সিয়াং, আপার সিয়াং ও ইস্ট সিয়াং জেলার জনজীবন পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে।
পুলিশ প্রশাসন অবশ্য অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। সিয়াংয়ের পুলিশ সুপার কামদাম সিকম জানান, ডিটে-ডাইমে এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক বিক্ষোভকারী সমবেত হয়ে পথ আটকে রাখলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাঁদের সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে বলে তাঁর দাবি। একই সময়ে পাসিঘাট এলাকাতেও বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ছোড়া হয় এবং সেখানে পুলিশের কিছু গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে আন্দোলনকারীদের ওপর প্রকাশ্যে টিয়ার গ্যাস ছোড়ার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজ্যজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অতিরিক্ত পুলিশি বলপ্রয়োগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের ভিটেমাটি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো মেগা বাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না, ফলে সীমান্ত লাগোয়া এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
“চীন সীমান্তবর্তী স্পর্শকাতর অঞ্চলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মতি ছাড়া মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা বড় ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক অসন্তোষ তৈরি করছে। পরিবেশগত ঝুঁকি ও ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কা দূর না করে বলপ্রয়োগের নীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



