Read in English
পাঠক সুবিধা:
জাতীয়ঢাকা

আসামে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান: গৃহহীন ১১০০ পরিবার, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ১০টি মসজিদ

চলতি ডেস্কআজ
১০ বার পঠিতপড়ার সময়: ২ মিনিট
এআই নিউরাল অডিও সংবাদ

১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

০০:০০গুগল নিউরাল অডিও ভয়েস০০:০০
আসামে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান: গৃহহীন ১১০০ পরিবার, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ১০টি মসজিদ
পূর্ণাঙ্গ ভিউ
ছবি: সংগৃহীত • চলতি নিউজ স্পেশাল কাভারেজ
একনজরে মূল বিষয় ও সারসংক্ষেপ

ভারতের আসামে রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মাত্র দুই দিনে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ১০টি মসজিদ ও সহস্রাধিক বসতবাড়ি; তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ।

বিজ্ঞাপনটেক একাডেমি বাংলাদেশ

আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প

ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!

ভর্তি হতে ক্লিক করুন

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে আবারও বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের এই সাঁড়াশি অভিযানে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে প্রায় ১১০০ বাঙালি মুসলিম পরিবারকে তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অন্তত ১০টি মসজিদ ও ধর্মীয় স্থাপনা। আকস্মিক এই উচ্ছেদের কারণে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন নারী, শিশুসহ হাজার হাজার মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বনভূমি ও খাসজমি উদ্ধারের নামে এই ব্যাপক অভিযান পরিচালিত হয়। ভারী পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বুলডোজার ও এসকাভেটর নিয়ে নামে প্রশাসন। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সেখানে বসবাস করে আসলেও তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে বাড়িঘর ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়। গৃহস্থালির আসবাবপত্র পর্যন্ত সরিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

আসামে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জমি পুনরুদ্ধার ও কথিত 'অবৈধ অনুপ্রবেশকারী' চিহ্নিত করার নামে এমন উচ্ছেদ অভিযান নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সেখানকার সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার পুনর্বাসন ছাড়া এমন নির্মম উচ্ছেদের সমালোচনা করলেও রাজ্য প্রশাসন তাদের কঠোর অবস্থান অব্যাহত রেখেছে।

এই ঘটনার পর স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাঙা মসজিদ এবং খোলা আকাশের নিচে বসে থাকা বিপন্ন মানুষের ছবি ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড়। নাগরিক অধিকারকর্মীরা বিষয়টিকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু বানানোর ধারাবাহিক চক্রান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বর্তমানে উচ্ছেদকৃত এলাকাগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। সর্বস্ব হারানো পরিবারগুলোর কাছে এখনও পর্যন্ত কোনো ত্রাণ কিংবা সরকারি পুনর্বাসন সহায়তা পৌঁছায়নি। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে খোলা আকাশের নিচেই দিনাতিপাত করছেন দুর্গত মানুষগুলো।

প্রতিবেদনটি বস্তুনিষ্ঠ সম্পাদকীয় নীতি ও মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করে প্রকাশিত।
চলতি ডিজিটাল নিউজরুম