প্রতিরোধ টিকার পরও বন্ধ হচ্ছে না হামে মৃত্যু
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

কোনোভাবেই থামছে না হাম ও হাম উপসর্গের মৃত্যু। প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছে শিশুরা।
- কোনোভাবেই থামছে না হাম ও হাম উপসর্গের মৃত্যু।
- প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছে শিশুরা।
- দীর্ঘ সাত মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
কোনোভাবেই থামছে না হাম ও হাম উপসর্গের মৃত্যু। প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছে শিশুরা। দীর্ঘ সাত মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত ১ হাজার ২১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১০৪ জন। আর হাম উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ১১০ জনের। গত শুক্রবারও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিরোধ সম্ভব এই রোগে শিশু মৃত্যু ঠিক কবে থামবে জানে না কেউ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০।
এর মধ্যে পরীক্ষায় ২৩ হাজার ২৭৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। হাম প্রতিরোধে টিকাদানের আওতা বাড়ানো, বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করা, আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং জটিল রোগীদের যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। তবে মৃত্যুর কারণ ও প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার সুনির্দিষ্ট চিত্র পেতে রোগীর বয়স, টিকাগ্রহণের ইতিহাস, মৃত্যুর কারণ এবং এলাকাভিত্তিক সংক্রমণের তথ্য বিশ্লেষণ প্রয়োজন। সাত মাসে মৃত্যু ১ হাজার ২১৪: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে প্রাণ গেছে ১০৪ জনের। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২১৪।
সর্বশেষ গতকাল হামের উপসর্গ নিয়ে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ১১০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ সময়ে পরীক্ষায় নতুন করে ২৫ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। হামজনিত শিশুর চাপ হাসপাতালে: গত সাত মাসে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ১৮ হাজার ৮৭০। এর মধ্যে ২৩ হাজার ২৭৩ জনের সংক্রমণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৩৩ জন। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৭৯৮ জন। এখনও রোজ রোগী ও তার স্বজনরা ভিড় করে রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে। এতে ডেঙ্গু মৌসুমে হাসপাতালে রোগীর বাড়তি চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এতে স্বজনদের হাসপাতালে শয্যার জন্য এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। হাসপাতালে রোগীর এই চাপ কমাতে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা, শয্যা ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রাপ্যতা বাড়াতে হবে। হামের পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা ও অপুষ্টির মতো জটিলতা দেখা দিলে পরিস্থিতিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। হাম মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি হামের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন মৃত্যুর ঘটনা প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের আওতা বাড়ানো, বাদ পড়া শিশুদের চিহ্নিত করা, রোগী শনাক্তকরণ ও নজরদারি জোরদার, হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিতভাবে তথ্য প্রকাশ করা জরুরি। বিশেষ করে কোন বয়সের শিশু বেশি আক্রান্ত হচ্ছে, মৃতদের মধ্যে কতজন আগে টিকা পেয়েছিল এবং কোন এলাকায় সংক্রমণ ও প্রাণহানি বেশি এসব তথ্য প্রকাশ করা গেলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, দেশের চলমান হাম পরিস্থিতি মোকাবেলায় হামে মৃত্যুর ধারাবাহিকতার কারণ অনুসন্ধান, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্তকরণ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান জোরদার এবং রোগী ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দূর করা জরুরি। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, হামের প্রাদুর্ভাবের তথ্য বিশ্লেষণ, রোগী শনাক্তকরণ ও নজরদারি জোরদার, মৃত্যুর কারণ নির্ণয় এবং সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এখন প্রথম কাজ। এরপর সন্দেহজনক হাম ও পরীক্ষায় নিশ্চিত সংক্রমণের তথ্য মূল্যায়ন করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করতে হবে। প্রয়োজনে বাড়াতে হবে শিশু স্বাস্থ্যের ওপর নজরদারি।
“ঢাকা অঞ্চলে গৃহীত এ উদ্যোগ ও ঘটনাপ্রবাহের ক্ষেত্রে কেবল তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক সমাধান এবং নাগরিক সুবিধার দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা দেওয়াই সর্বোত্তম নীতি।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



