বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ঋণ যুক্তরাষ্ট্রের, তালিকায় বাংলাদেশ ৪৫ নম্বরে
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী সরকারি ঋণের দিক থেকে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির মোট সরকারি ঋণ ৪১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা তাদের মোট জিডিপির ১২৭ শতাংশ। এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম, যেখানে দেশটির সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার বা জিডিপির ৪০ শতাংশ।
- ৪১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে বিশ্বের শীর্ষ ঋণগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র।
- তালিকায় ৪৫ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের মোট সরকারি ঋণ ২০৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার।
- গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে সরকারি ঋণের পরিমাণ প্রায় পাঁচ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
সারা বিশ্বে সরকারি ঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক অর্থনীতি বড় চাপের মুখে পড়ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সরকারি ঋণের অঙ্কে সবার ওপরে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সরকারি ঋণের বোঝা এখন ৪১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১২৭ শতাংশ। অন্যদিকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এই বৈশ্বিক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম। বর্তমানে বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ ২০৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বিশ্বজুড়ে শীর্ষ ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ঠিক পেছনেই রয়েছে চীন। দেশটির ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার, যা তাদের মোট জিডিপির ১০৪ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা জাপানের ঋণ ৮ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলার হলেও বড় অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে তাদের ঋণ-জিডিপি অনুপাত সবচেয়ে বেশি, প্রায় ১৯৯ শতাংশ। এ ছাড়া ৪ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে যুক্তরাজ্য চতুর্থ এবং ৪ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে ফ্রান্স পঞ্চম স্থানে রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত ৩ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে তালিকায় সপ্তম অবস্থানে রয়েছে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঋণ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত দেড় দশকে দেশটির অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। ২০১০ সালে যেখানে বাংলাদেশের সরকারি মোট ঋণের পরিমাণ ছিল ৪০ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, বর্তমানে তা বেড়ে ২০৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে এসে ঠেকেছে। তবে বড় বড় উন্নত দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ঋণ ও জিডিপির অনুপাত এখনো তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেখানে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ইতালির ঋণ তাদের বার্ষিক অর্থনীতির চেয়েও বেশি, সেখানে বাংলাদেশের ঋণ জিডিপির মাত্র ৪০ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মাত্রাতিরিক্ত ঋণের বোঝা এবং তার বিপরীতে চড়া সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে বিশ্বের বহু দেশ এখন নিয়মিত বাজেট সংকটে পড়ছে। এর ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো ও সামাজিক সুরক্ষার মতো মৌলিক জনকল্যাণমুখী খাতে সরকারের ব্যয় করার সক্ষমতা কমে আসছে। সম্প্রতি ইউরোপের বেশ কিছু দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে তৈরি হওয়া আন্দোলনের পেছনেও সরকারের এই ঋণ সংকট ও বাজেট ঘাটতির প্রভাব রয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, ঋণ নেওয়ার চেয়ে সেই অর্থ সঠিক উৎপাদনশীল খাতে ব্যবহার করা এবং সময়মতো সুদ মেটানোর সক্ষমতা বজায় রাখাই এখন দেশগুলোর প্রধান চ্যালেঞ্জ।
“উন্নত দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের ঋণ ও জিডিপির অনুপাত (৪০%) আপাতদৃষ্টিতে সহনীয় মনে হলেও গত ১৫ বছরে ঋণের পাঁচ গুণ বৃদ্ধি একটি সতর্কবার্তা। বিশেষ করে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং চড়া সুদে ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়লে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন বরাদ্দে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।”
এই বিভাগের আরও সংবাদ
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।

