খুলনায় চোর সন্দেহে জুট মিলের নিরাপত্তাকর্মীদের পিটুনিতে যুবকের মৃত্যু
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

খুলনার খানজাহান আলী থানার অ্যাজাক্স জুট মিলে চোর সন্দেহে সম্রাট ঢালী নামের এক যুবককে আটক করে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, নিজেদের চুরির ঘটনা ঢাকতে সম্রাটকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।
- অ্যাজাক্স জুট মিলে সম্রাট ঢালী নামের এক যুবককে আটকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
- মারধরের পর তিনতলা থেকে ফেলে দেওয়ার দাবি স্বজনদের, পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
- নিহতের পরিবারের দাবি, মিলের নিজস্ব চুরি ঢাকতেই নিরাপরাধ সম্রাটকে চোর সাজিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
খুলনার খানজাহান আলী থানার মীরেরডাঙ্গায় অবস্থিত বন্ধ থাকা অ্যাজাক্স জুট মিলে চোর সন্দেহে সম্রাট ঢালী (২৮) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মিলের নিরাপত্তাকর্মীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে সম্রাটসহ তিনজন জুট মিলে প্রবেশ করলে নিরাপত্তাকর্মীরা সম্রাটকে ধরে ফেলেন, তবে বাকি দুজন পালিয়ে যান। এরপর মিলের ভেতরেই সম্রাটের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ স্বজনদের।
নিহত সম্রাট মীরেরডাঙ্গা ফুলবাড়ী এলাকার মজিবর ঢালীর ছেলে এবং তিনি স্থানীয় বাজারে মুরগি বিক্রির কাজ করতেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই তিনি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। স্বজনদের অভিযোগ, মিলের প্রহরীরা মারধরের একপর্যায়ে সম্রাটকে তিনতলা থেকে নিচে ফেলে দেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই সুজন ঢালী নিরাপত্তাকর্মীদের দিকে সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলে বলেন, মিলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লোকেরাই দীর্ঘদিন ধরে ভেতরের মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরি করে বাইরে বিক্রি করে আসছিল। সেই অপরাধ ঢাকতেই তাঁর ভাইকে চোর বানিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, সম্রাটের শরীরে ওপর থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার কোনো লক্ষণ ছিল না, বরং আঘাতের ধরন স্পষ্ট করে দেয় যে তাঁকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাসার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ আহত সম্রাটকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠায় এবং সেখানে বিকেলে তিনি মারা যান। সম্রাটের বিরুদ্ধে থানায় আগে থেকেই চুরিসহ দুটি মামলা রয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ। তবে মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চালানো হচ্ছে।
“আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা নাগরিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক ভয়াবহ বার্তা দেয়। কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলেও তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করার কোনো আইনগত অধিকার কারও নেই। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের আইনের মুখোমুখি করা অত্যন্ত জরুরি।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



