Read in English
পাঠক সুবিধা:
সারাদেশময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ মেডিকেলের মেয়াদ থাকা সিরিঞ্জ ও স্যালাইন ময়লার ভাগাড়ে

চলতি ডেস্কআজ
১০ বার পঠিতপড়ার সময়: ২ মিনিট
এআই নিউরাল অডিও সংবাদ

১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

০০:০০গুগল নিউরাল অডিও ভয়েস০০:০০
ময়মনসিংহ মেডিকেলের মেয়াদ থাকা সিরিঞ্জ ও স্যালাইন ময়লার ভাগাড়ে
পূর্ণাঙ্গ ভিউ
ছবি: সংগৃহীত • চলতি নিউজ স্পেশাল কাভারেজ
একনজরে মূল বিষয় ও সারসংক্ষেপ

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ব্যবহারযোগ্য সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইন পাওয়া যাচ্ছে শম্ভুগঞ্জের ময়লার ভাগাড়ে। মেয়াদ শেষ হতে কয়েক বছর বাকি থাকা সত্ত্বেও এসব সরকারি চিকিৎসাসামগ্রী ময়লার সঙ্গে চলে যাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ ৩টি তথ্য
  • শম্ভুগঞ্জের ময়লার ভাগাড় থেকে বস্তাভর্তি নতুন সিরিঞ্জ, স্যালাইন ও ক্যানুলা উদ্ধার করা হয়েছে।
  • উদ্ধার করা চিকিৎসাসামগ্রীর গায়ে মেয়াদ ২০২৮ থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত লেখা রয়েছে।
  • ময়লা বাছাইকারী শ্রমিকদের দাবি, জমে থাকা মালামালের কিছু অংশ বাইরে পাইকারি দরে বিক্রি করা হয়।
বিজ্ঞাপনটেক একাডেমি বাংলাদেশ

আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প

ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!

ভর্তি হতে ক্লিক করুন

মেয়াদ শেষ হতে এখনো দুই থেকে পাঁচ বছর বাকি, তবুও সরকারি হাসপাতালের নতুন সিরিঞ্জ, ক্যানুলা ও স্যালাইন মিলছে ময়লার ভাগাড়ে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতাল থেকে প্রতিদিন বের হওয়া বর্জ্যের সঙ্গে এসব মূল্যবান সামগ্রী চলে যাচ্ছে নগরের শম্ভুগঞ্জ ডাম্পিং স্টেশনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষ ও সেবাগ্রহীতাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গরিব রোগীরা যখন হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম না পেয়ে বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, তখন সরকারি মালামাল এভাবে ফেলে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শম্ভুগঞ্জের বর্জ্য সংরক্ষণাগারে গিয়ে দেখা যায়, বস্তাভর্তি অব্যবহৃত সিরিঞ্জ ও স্যালাইন আলাদা করে রাখা হয়েছে। এসব সামগ্রীর গায়ে থাকা তথ্যে দেখা গেছে, অনেকগুলোর মেয়াদ ২০২৮ সাল এবং বেশ কিছুর মেয়াদ ২০৩১ সাল পর্যন্ত রয়েছে। বর্জ্য বাছাইয়ের কাজে যুক্ত শ্রমিক জুবেদা খাতুন জানান, তাঁদের দলের চারজন হাসপাতাল থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করেন এবং বাকি সাতজন সংরক্ষণাগারে তা আলাদা করেন। তিনি জানান, প্রায় প্রতিদিনই নতুন সামগ্রী পাওয়া যায়। কয়েক বস্তা জমলে কিছু মালামাল হাসপাতালে পাঠানো হলেও বাকিগুলো পাইকারি দরে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন মমেক হাসপাতাল থেকে ৩৫ থেকে ৪০ ভ্যান বর্জ্য অপসারণ করা হয়। এর ভেতর থেকেই প্রতি সপ্তাহে কয়েক বস্তা ব্যবহারযোগ্য চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেনা এসব সামগ্রী এভাবে বাইরে চলে যাওয়া বড় ধরনের অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। নগরের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাসপাতালে গেলে সুঁই থেকে শুরু করে সাধারণ স্যালাইনও বাইরে থেকে কিনতে হয়, অথচ এখানে লাখ লাখ টাকার সম্পদ পাচার বা নষ্ট হচ্ছে।

নাগরিক সংগঠন ময়মনসিংহ মঞ্চসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালের ওয়ার্ডে মালামাল সরবরাহ, মজুত খতিয়ান এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার তদারকিতে বড় ধরনের ফাঁকফোকর রয়েছে। কোনো অসাধু চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে সরকারি মালামাল বাইরে পাচার করছে কি না, তা খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকেরা।

চলতি নিউজ দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণ • নিরপেক্ষ এআই মতামত

“সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি নিত্যদিনের ঘটনা। এমন বাস্তবতায় মেয়াদ থাকা সিরিঞ্জ ও স্যালাইন আবর্জনার ভাগাড়ে পাওয়ার বিষয়টি কেবল দায়িত্বে অবহেলা নয়, বরং একটি বড় অনিয়মের ইঙ্গিত দেয়। বর্জ্য বাছাইকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী এসব মালামাল বাইরে বিক্রি হওয়ার অভিযোগটি অত্যন্ত মারাত্মক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচিত তাৎক্ষণিকভাবে মজুত খতিয়ান পরীক্ষা করে মালামাল নিষ্পত্তির পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।”

প্রতিবেদনটি বস্তুনিষ্ঠ সম্পাদকীয় নীতি ও মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করে প্রকাশিত।
চলতি ডিজিটাল নিউজরুম