যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে প্রতিবেশীদের ঘাঁটিতেও আঘাতের ঘোষণা ইরানের
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন হামলার আশঙ্কার মধ্যে নিজেদের প্রতিরক্ষানীতিতে বড় বদল এনেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, নতুন করে কোনো আঘাত এলে তারা শুধু নিজেদের সীমানার ভেতর থেকে প্রতিরোধ গড়বে না, বরং আশপাশের দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও সরাসরি আক্রমণ চালাবে।
- প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান ছেড়ে আক্রমণাত্মক সামরিক নীতিতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।
- নতুন করে হামলা হলে অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত ঘাঁটিগুলোতেও সরাসরি আঘাত হানবে তেহরান।
- হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি ও কূটনৈতিক আলোচনা থেমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ আট মাসের টানাপোড়েনের পর নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধের ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে নতুন হামলার ছক কষছে—এমন খবরের মধ্যেই কড়া বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি আবারও কোনো সামরিক দুঃসাহস দেখায়, তবে এবার আর জবাব শুধু সাধারণ পাল্টা হামলায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রয়োজনে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে অভিযান চালানো হবে।
আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি বুধবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় জানান, তাদের দেশ দীর্ঘদিনের আত্মরক্ষামূলক নীতি পুরোপুরি বদলে এখন 'আক্রমণাত্মক ও অসম' নীতি গ্রহণ করেছে। আগে কোনো দেশ আঘাত করলে ইরান শুধু তার জবাব দেওয়ার কথা বলত, তবে নতুন কৌশল অনুযায়ী এখন থেকে পাল্টা আঘাতের পাশাপাশি আক্রমণকারী এবং তাদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে সরাসরি সম্মুখ সামরিক অভিযান চালানো হবে। রণকৌশলের এই বড় বদল স্পষ্ট করে দেয় যে, আসন্ন সংঘাতের ক্ষেত্রে তেহরান কোনো আঞ্চলিক সীমারেখা মানবে না।
এদিকে সংঘাতের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ায় পারস্য উপসাগর ও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত তৎপরতার মধ্যে সৌদি আরবে নিযুক্ত নিজেদের অপ্রয়োজনীয় কূটনৈতিক কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আভাস দিয়েছেন যে চলমান বিরোধ নিয়ে তিনি খুব দ্রুত চূড়ান্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন। যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা পুরোপুরি থমকে যাওয়ায় কূটনৈতিক সমাধান ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষের এমন চরম অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক বিপজ্জনক যুদ্ধের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ইরান যদি প্রতিবেশী কোনো আরব দেশের আমেরিকান ঘাঁটিতে সরাসরি আঘাত হানে, তবে তা একযোগে বহু দেশকে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলবে। কূটনৈতিক পথগুলো আবার সচল না হলে বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুটগুলো বড় ধরনের বিপর্যয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
“ইরানের নতুন আক্রমণাত্মক সামরিক নীতি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূরাজনীতিতে একটি বিপজ্জনক মোড়। আত্মরক্ষার বদলে প্রতিবেশীদের মাটিতে থাকা মার্কিন স্থাপনায় আঘাতের হুমকি মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান না নেওয়ার জন্য দেওয়া চরম বার্তা।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



