৭০ অনুচ্ছেদ শিথিল হচ্ছে, স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন এমপিরা
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

সংবিধানের বিতর্কিত ৭০ অনুচ্ছেদে বড় ধরনের সংস্কার এনে সংসদ সদস্যদের নিজস্ব মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সংবিধান সংশোধন কমিটি। জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থবিল, আস্থা ভোট ও সংবিধান সংশোধন ছাড়া বাকি সব বিষয়ে এমপিরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।
- অর্থবিল, আস্থা-অনাস্থা, সংবিধান সংশোধন ও জাতীয় নিরাপত্তা ছাড়া বাকি বিষয়ে স্বাধীন ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এমপিরা।
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা ও সংসদে উচ্চকক্ষ গঠনের বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আলাদা সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগে নতুন আইনের প্রস্তাব যাচাই করা হচ্ছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
সংবিধানের বহু আলোচিত ৭০ অনুচ্ছেদ শিথিল করার ব্যাপারে বড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির নবম বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানানো হয়। কমিটির সভাপতি জানান, সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত হলে নির্দিষ্ট চারটি জরুরি ক্ষেত্র বাদে অন্য যেকোনো বিষয়ে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়েও স্বাধীন মতামত ও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
সংসদ ভবনে আয়োজিত এই বিশেষ বৈঠকে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবী, আইনের শিক্ষক ও শিক্ষাবিদসহ প্রায় অর্ধশত সংবিধান বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা, জাতীয় সংসদে একটি উচ্চকক্ষ চালু করা এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার মতো জরুরি বিষয়গুলো নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। সবার আলোচনার ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী রূপ দেওয়াই এই বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য ছিল।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ জানান, জুলাই সনদের সিদ্ধান্তের আলোকে সংসদ সদস্যদের কথা বলার ও ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অর্থবিল অনুমোদন, সরকারের ওপর আস্থা বা অনাস্থা ভোট, সংবিধান সংশোধন এবং দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে দলীয় শৃঙ্খলা বহাল থাকবে। তবে এর বাইরে যেকোনো সাধারণ আইন প্রণয়ন বা নীতিগত বিষয়ে সংসদ সদস্যরা নিজের বিবেক অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ও উচ্চকক্ষের গঠন নিয়ে বৈঠকে একাধিক বিকল্প প্রস্তাব জমা পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব সংস্কার কার্যকর হলে জাতীয় সংসদ শুধু সরকারের হুকুম তামিল করার জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা প্রকৃত বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হবে। বিশেষজ্ঞ কমিটি খুব দ্রুত তাদের লিখিত সুপারিশমালা যাচাই করে সরকারের কাছে চূড়ান্ত খসড়া প্রতিবেদন জমা দেবে।
“বাংলাদেশের সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ বরাবরই সংসদ সদস্যদের হাত-পা বেঁধে রাখার একটি ধারা হিসেবে সমালোচিত হয়ে এসেছে। এই অনুচ্ছেদের কারণে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলা বা ভোট দেওয়া অসম্ভব ছিল, যার ফলে সংসদ মূলত নির্বাহী বিভাগের রাবার স্ট্যাম্পে রূপ নেয়। প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়িত হলে সংসদ সদস্যরা নিজ নির্বাচনী এলাকার স্বার্থে সাহসী ভূমিকা রাখতে পারবেন এবং আইনসভার অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য তৈরি হবে।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



