Read in English
পাঠক সুবিধা:
আন্তর্জাতিকঢাকা

রোগবালাইয়ের কারণে বিশ্বজুড়ে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে জনপ্রিয় ক্যাভেন্ডিশ কলা

চলতি ডেস্কআজ
১০ বার পঠিতপড়ার সময়: ২ মিনিট
এআই নিউরাল অডিও সংবাদ

১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

০০:০০গুগল নিউরাল অডিও ভয়েস০০:০০
রোগবালাইয়ের কারণে বিশ্বজুড়ে বিলুপ্তির ঝুঁকিতে জনপ্রিয় ক্যাভেন্ডিশ কলা
পূর্ণাঙ্গ ভিউ
ছবি: সংগৃহীত • চলতি নিউজ স্পেশাল কাভারেজ
একনজরে মূল বিষয় ও সারসংক্ষেপ

মারাত্মক ছত্রাকজনিত রোগ ‘টিআর৪’ বা ট্রপিক্যাল রেস ফোরের কারণে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্যাভেন্ডিশ জাতের কলা বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়েছে। ক্লোন পদ্ধতিতে চাষ হওয়ায় সব গাছের জিন একই রকম, যার ফলে এ রোগ পুরো জাতটিকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তবে গবেষকেরা নতুন প্রজননপ্রযুক্তির মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের চেষ্টা করছেন।

গুরুত্বপূর্ণ ৩টি তথ্য
  • বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি খাওয়া ক্যাভেন্ডিশ জাতের কলা ‘টিআর৪’ নামের ছত্রাকজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
  • বাণিজ্যিক কলার সব গাছ একই জিনের ক্লোন হওয়ায় এদের কোনো ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠছে না।
  • কলা রক্ষায় নতুন জিনগত প্রজননপ্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছেন আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীরা।
বিজ্ঞাপনটেক একাডেমি বাংলাদেশ

আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প

ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!

ভর্তি হতে ক্লিক করুন

সারা বিশ্বে টমেটোর পরেই সবচেয়ে বেশি খাওয়া ফল হলো কলা। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ৯০ লাখ টন কলা উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে বাজারে সাধারণ ক্রেতারা যে কলা কেনেন, তার সিংহভাগই ক্যাভেন্ডিশ জাতের। তবে জলবায়ু পরিবর্তন ও মারাত্মক ছত্রাকজনিত রোগের কারণে জনপ্রিয় এই ফলটি এখন বড় ধরনের অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। গবেষকেরা বলছেন, দ্রুত সমাধান না মিললে বিশ্ববাজার থেকে এই জাতের কলা চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।

অতীতে ১৯৫০-এর দশকে 'পানামা' নামের এক ছত্রাক রোগের কারণে বিশ্বজুড়ে দাপট দেখানো 'গ্রোস মিশেল' জাতের কলা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই বিশ্ববাজারে নিয়ে আসা হয়েছিল রোগপ্রতিরোধী ক্যাভেন্ডিশ কলা। কিন্তু ক্যাভেন্ডিশ গাছগুলো প্রাকৃতিক উপায়ে নয়, বরং ক্লোন বা একই জিনগত বৈশিষ্ট্যে তৈরি করা হয়। ফলে সব গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একই রকম দুর্বল। এখন 'টিআর৪' বা ট্রপিক্যাল রেস ৪ নামের পানামা রোগের নতুন এক রূপ সরাসরি আক্রমণ করছে এই ক্যাভেন্ডিশ জাতটিকে।

যুক্তরাজ্যের নরউইচের আর্লহ্যাম ইনস্টিটিউটের জিনোম বিশেষজ্ঞ ড. হোসে দে ভেগা জানিয়েছেন, এ রোগ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে শুরু হয়ে অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য পেরিয়ে লাতিন আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের শীর্ষ কলা রপ্তানিকারক দেশ ইকুয়েডরে এ রোগের সংক্রমণ ধরা পড়ায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের খাদ্য ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। এতে করে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ চাষি ও ব্যবসায়ীর জীবিকা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

তবে আশা ছাড়ছেন না বিজ্ঞানীরা। গবেষকেরা দাবি করেছেন, আধুনিক জিন সম্পাদনা ও প্রজননপ্রযুক্তির মাধ্যমে ক্যাভেন্ডিশ কলার ভেতরে রোগপ্রতিরোধী ক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব। একক কোনো জাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে কলার অন্যান্য বুনো জাতগুলোকে বাণিজ্যিক চাষে অন্তর্ভুক্ত করার দিকেও জোর দিচ্ছেন কৃষিবিশেষজ্ঞরা। বিশ্ববাসীর সকালের নাশতার টেবিল থেকে কলা যাতে হারিয়ে না যায়, সেজন্য এখন জিনপ্রযুক্তির চূড়ান্ত অগ্রগতির দিকেই তাকিয়ে বিশ্ব।

চলতি নিউজ দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণ • নিরপেক্ষ এআই মতামত

“কলা সংকটের মূল কারণ হলো কৃষিতে অতিরিক্ত মনোকালচার বা একক জাতের ওপর নির্ভরশীলতা। রোগপ্রতিরোধী নতুন জাত তৈরি না করলে শুধু ফলের বাজার নয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোর লাখো মানুষের রুটিরুজি বন্ধ হয়ে যাবে।”

প্রতিবেদনটি বস্তুনিষ্ঠ সম্পাদকীয় নীতি ও মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করে প্রকাশিত।
চলতি ডিজিটাল নিউজরুম