চট্টগ্রামে তারেক রহমানের বার্তা: ভোটে জিততে পারে এমন প্রার্থী বাছুন
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো ধরনের সরকারি হস্তক্ষেপ হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামে আয়োজিত এক সাংগঠনিক সভায় তিনি নেতা-কর্মীদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দলীয় পদের চেয়ে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ও ভোটে জয়ের সক্ষমতা দেখেই প্রার্থী চূড়ান্ত করতে হবে। একই সঙ্গে অপরাধমুক্ত রাজনীতি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপরও কঠোর জোর দেন তিনি।
- আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে প্রশাসন বা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো অযাচিত প্রভাব খাটানো হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
- দলীয় পদের চেয়ে জনসমর্থন এবং নির্বাচনে সরাসরি জেতার সক্ষমতাকে প্রার্থী বাছাইয়ের মূল মাপকাঠি ঘোষণা করা হয়েছে।
- দলীয় নেতা-কর্মীদের কোনো ধরনের অপরাধে না জড়াতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়তা করতে বলা হয়েছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের রাজনীতিতে গতি আনতে দলের নেতা-কর্মীদের একগুচ্ছ কঠোর বার্তা দিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের র্যাডিসন ব্লু হোটেলে আয়োজিত বিশেষ সাংগঠনিক সভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট করে জানান, অতীতের মতো নির্বাচনে কোনো সরকারি প্রভাব বা জালিয়াতি থাকবে না। ফলে কেবল দলের পদ-পদবি নয়, সাধারণ মানুষের কাছে যার সুনাম আছে এবং যিনি ভোটে সরাসরি জয় ছিনিয়ে আনতে পারবেন, তাঁকেই প্রার্থী করতে হবে। নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধদ্বার সভায় মহানগরের পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ জেলার প্রায় সাড়ে চারশ নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে ঐক্য বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, স্থানীয় সরকার পর্যায়ে জনগণের আস্থাই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি। ফলে কাউকে খুশি করতে নয়, বরং মাঠপর্যায়ের জনমত যাচাই করেই একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে হবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিজয়ী হতে গ্রহণযোগ্য মুখের কোনো বিকল্প নেই। এর আগে সন্ধ্যায় শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময়ের অংশ হিসেবে তিনি রাজশাহী থেকে উড়োজাহাজে চট্টগ্রামে আসেন এবং নগরের রহমতগঞ্জের ঐতিহাসিক জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
রাজনৈতিক নির্দেশনার পাশাপাশি এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেতা-কর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। তারেক রহমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দলের কোনো নেতা-কর্মী কোনো ধরনের অপরাধ, দখলবাজি কিংবা চাঁদাবাজিতে জড়ালে তাঁকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। নিজ নিজ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ-প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, সবাই নিজের নাগরিক দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে সমাজের অর্ধেক অপরাধ এমনিতেই দূর হয়ে যাবে। একই সঙ্গে সরকারের নেওয়া জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো সাধারণ মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে তারেক রহমানের এই বার্তা মাঠপর্যায়ের কর্মীদের স্পষ্ট এক জবাবদিহির মুখে দাঁড় করিয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে স্থানীয় নির্বাচনে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বের উত্থান ঘটলে তা কেবল বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তিকে মজবুত করবে না, বরং সামগ্রিক গণতান্ত্রিক পরিবেশেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সভা শেষ করে রাতেই চট্টগ্রাম ত্যাগ করেন তিনি। তবে তাঁর দেওয়া বার্তা অনুযায়ী চট্টগ্রাম বিএনপি কত দ্রুত নিজেদের বিভেদ ভুলে জনপ্রিয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
“স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের বিতর্কিত বা প্রভাবশালী নেতাদের বদলে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়নের বার্তা দেওয়া রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। এতে দল যেমন অন্তর্দ্বন্দ্বে রাশ টানতে পারবে, তেমনি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অনাস্থা অনেকটাই কাটবে বলে আশা করা যায়।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



