‘সামনে গেলেই ড্রোন হামলা, এটি মরণফাঁদ’: রাশিয়ায় আহত বাংলাদেশি সোহেল
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

ভালো কাজের খোঁজে গিয়ে রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে জড়াতে বাধ্য হওয়া রাজবাড়ীর যুবক আলী হাসান সোহেল এখন দেশটির পেনজা শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধে রাজি না হলে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত জীবন বাজি রেখে রণক্ষেত্রে যেতে বাধ্য করা হয়।
- ভালো কাজের আশায় রাশিয়া গিয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে জড়াতে বাধ্য হয়েছেন বাংলাদেশি যুবক সোহেল।
- অস্ত্র ধরিয়ে দিয়ে সামনে পাঠানো হয়, যা কার্যত ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার মরণফাঁদ হিসেবে কাজ করে।
- যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকার করলে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো বলে জানিয়েছেন তিনি।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর আশায় বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন রাজবাড়ীর যুবক আলী হাসান সোহেল। কিন্তু স্বপ্নের বদলে তিনি গিয়ে পড়েন ইউক্রেন যুদ্ধের রক্তক্ষয়ী ময়দানে। রাশিয়ার হয়ে রণক্ষেত্রে নামতে বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত ড্রোন হামলায় গুরুতর আহত হন তিনি। বর্তমানে রাশিয়ার পেনজা শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহেল তুলে ধরেছেন যুদ্ধের সেই চরম বিভীষিকা আর প্রতারণার বাস্তব চিত্র।
হাসপাতাল থেকে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে সোহেল বলেন, যুদ্ধে যেতে রাজি না হলে প্রথমে একটি ঘরে বন্দি করে রাখা হতো। সেখানে খাবার বন্ধ করে দেওয়া থেকে শুরু করে চালানো হতো প্রচণ্ড মারধর ও শারীরিক নির্যাতন। একপর্যায়ে অসহ্য শাস্তি থেকে বাঁচতে অনেকেই রণক্ষেত্রে যেতে বাধ্য হন। রুশ বাহিনীর পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হতো যে সরাসরি যুদ্ধ করতে হবে না, শুধু ডানে-বাঁয়ে ও সামনে নজর রাখতে হবে। কিন্তু বাস্তবে এটি ছিল একটি চরম ফাঁদ।
সোহেলের বর্ণনা অনুযায়ী, বিদেশি তরুণদের মূলত যুদ্ধের সম্মুখভাগে টোপ বা ফাঁদ হিসেবে এগিয়ে দেওয়া হয়। তারা সামান্য সামনে এগোলেই ওপর থেকে আঘাত হানে ইউক্রেনীয় ড্রোন। বোমার আঘাতে অনেকে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান, আর যারা ভাগ্যক্রমে বেঁচে আহত অবস্থায় ফিরতে পারেন, কেবল তাদেরই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ফাঁদে পড়ে অসংখ্য বিদেশি নাগরিক প্রাণ হারাচ্ছেন বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।
কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র কীভাবে বাংলাদেশসহ নানা দেশের তরুণদের ইউক্রেন যুদ্ধের মতো মরণফাঁদে ঠেলে দিচ্ছে, সোহেলের এই ঘটনা তা আবারও প্রকাশ্যে আনল। পরিবারের সদস্যরা এখন চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন এবং তাকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
“সহজ কাজের প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে বাংলাদেশিসহ বিদেশি তরুণদের জোরপূর্বক সম্মুখ সমরে নামানোর এই ঘটনা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের দৃষ্টান্ত। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মানবপাচার চক্র দমন এবং বিদেশে কর্মরত বা আটকে পড়া নাগরিকদের সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



