বিপন্নপ্রায় বামন শালিকের নিরাপদ আশ্রয়স্থল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, সংরক্ষণে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

বাংলাদেশে অত্যন্ত বিরল ও আবাসিক পাখি বামন শালিকের অস্তিত্ব এখন সংকটের মুখে পড়লেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এদের একটি অন্যতম প্রধান প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। পরিবেশ বিপর্যয় ও উপযুক্ত আবাসের অভাবে দেশজুড়ে এই পাখির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমলেও গবেষক ও আলোকচিত্রীরা এই ক্যাম্পাসে তাদের বংশবৃদ্ধির প্রমাণ পেয়েছেন। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সবুজ চত্বর সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি।
- ২০১১ সালে গাজীপুরে প্রথম দেখা মেলার পর বর্তমানে কেবল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই নিয়মিত বামন শালিকের প্রজনন ও বিচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
- মে থেকে আগস্ট মাসের প্রজনন মৌসুমে এই পাখির খাদ্য সংগ্রহ ও ছানা লালন-পালনের ওপর গবেষকরা বিস্তারিত তথ্যচিত্র ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন।
- মানব বসতির কাছাকাছি থাকলেও মানুষের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা এই পাখির প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষায় প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের অভাব রয়েছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের মানচিত্রে বামন শালিক বা শঙ্খ শালিক এক অনন্য ও রহস্যময় নাম, যা এ দেশের অতি দুর্লভ আবাসিক পাখিদের অন্যতম। ২০১১ সালে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রথমবার এই পাখির দেখা মেলার পর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর সন্ধান পেতে দীর্ঘ অনুসন্ধান চালাতে হয়েছে গবেষকদের। বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে এই বিরল পাখির প্রধান বিচরণ ও প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা পাখিপ্রেমী ও বিজ্ঞানীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে দ্রুত নগরায়ণ ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চলের ধ্বংসযজ্ঞের কারণে এই সুন্দর পাখিটির টিকে থাকার লড়াই দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। এই পাখির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আমাদের প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
বৈজ্ঞানিকভাবে Sturnus pagodarum নামে পরিচিত এই শালিকটি তার মাথায় থাকা আকর্ষণীয় কালো ঝুঁটি এবং লালচে কমলা রঙের চিবুক ও বুকের কারণে সাধারণ কাঠশালিক থেকে সহজেই আলাদা করা যায়। ২০ থেকে ২২ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এই পাখিটি সাধারণত চষা জমি, ফলের বাগান এবং পাতাঝরা বনের আর্দ্র পরিবেশ পছন্দ করে। দক্ষিণ এশিয়া ও চীনে এদের বিস্তৃতি থাকলেও বাংলাদেশে এদের সংখ্যা রহস্যজনকভাবে অত্যন্ত সীমিত এবং এরা মূলত জোড়ায় বা ছোট দলে বিচরণ করে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের যানবাহন শাখার নিকটবর্তী গাছগুলোতে এদের বাসা বাঁধার চিত্র ধারণ করেছেন আলোকচিত্রীরা, যা তাদের প্রজনন চক্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে। প্রজনন মৌসুমে পুরুষ পাখির ডাক এবং ছানাদের খাওয়ানোর দৃশ্য ধারণের মাধ্যমে এদের জীবনচক্রের নতুন বৈজ্ঞানিক তথ্য উন্মোচিত হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বামন শালিকের নিয়মিত উপস্থিতি গবেষকদের জন্য এক বড় গবেষণার ক্ষেত্র তৈরি করেছে, যেখানে পাখিটির ২৬০টিরও বেশি স্থিরচিত্র ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন ও গবেষকরা এই পাখির প্রজননকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাস প্রশাসনকে গাছ কাটা বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। বন বিভাগ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ইউনিটও এই বিরল পাখির আবাসস্থল রক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে। তবে মাঠ পর্যায়ে কার্যকর তদারকি এবং সুনির্দিষ্ট কোনো সংরক্ষণ প্রকল্প না থাকায় এই পাখির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। স্থানীয় পাখি আলোকচিত্রী ও পরিবেশকর্মীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগই এখন পর্যন্ত এই পাখির সুরক্ষায় প্রধান ভূমিকা পালন করছে।
চোলতি নিউজের সম্পাদকীয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, বামন শালিকের মতো বিরল পাখির অস্তিত্ব রক্ষা কেবল বন বিভাগের দায়িত্ব নয়, বরং এটি আমাদের সামগ্রিক পরিবেশগত উদাসীনতার বহিঃপ্রকাশ। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সবুজ ক্যাম্পাসগুলো যখন কংক্রিটের জঙ্গলে পরিণত হচ্ছে, তখন বন্যপ্রাণীদের এই শেষ আশ্রয়স্থলগুলো রক্ষা করা জরুরি রাষ্ট্রীয় কর্তব্য হওয়া উচিত। উন্নয়ন প্রকল্পের নামে নির্বিচারে গাছ কাটা এবং প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট করার নীতি অবিলম্বে বন্ধ না করলে আমরা অনেক দেশীয় প্রজাতি চিরতরে হারাব। প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পরিবেশগত প্রভাব নিরূপণ (EIA) বাধ্যতামূলক করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোকে পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা এখন সময়ের দাবি।
“বামন শালিকের মতো বিরল প্রজাতির পাখির টিকে থাকা প্রমাণ করে যে আমাদের নগর বনায়ন ও ক্যাম্পাসগুলোর প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা কতটা জরুরি। শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক সদিচ্ছা এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই এই পাখিদের আবাসস্থল ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



