অন্যের প্রশংসা শুনলে একজন মুমিন হিসেবে আপনার কী করা উচিত
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

মানুষ প্রশংসা শুনতে পছন্দ করলেও তা কখনো কখনো আত্মঅহংকারের কারণ হতে পারে। ইসলামে অন্যের প্রশংসাকে একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখা হয় এবং এমন পরিস্থিতিতে বিনয়ী থেকে আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- প্রশংসা আত্মবিশ্বাস বাড়ালেও অতিরিক্ত স্তুতি মানুষের মনে অজান্তেই অহংকার তৈরি করতে পারে।
- কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী নিজের আত্মশুদ্ধির বড়াই না করে বিনম্র থাকা মুমিনের লক্ষণ।
- যেকোনো সাফল্য বা গুণের প্রশংসা পেলে মন থেকে 'আলহামদুলিল্লাহ' বলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা উচিত।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
কাজের স্বীকৃতি বা সুন্দর ব্যবহারের প্রশংসা শুনতে মানুষের স্বাভাবিকভাবেই ভালো লাগে। কারো একটি ইতিবাচক কথা অনেক সময় দিনের সমস্ত ক্লান্তি দূর করে দেয় এবং কাজের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে অন্যের প্রশংসাকে কেবল ভালো লাগার বিষয় হিসেবে না দেখে একটি বড় আত্মিক পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ক্রমাগত প্রশংসা মানুষের মনে নিজের প্রতি অযথা বড়াই বা শ্রেষ্ঠত্বের অনুভূতি তৈরি করতে পারে।
ধর্মীয় চিন্তাবিদদের মতে, মানুষ যখন কাউকে বারবার অত্যন্ত ভালো বা জ্ঞানী হিসেবে আখ্যা দেয়, তখন নিজের অজান্তেই মনে অহংকার ঢুকে পড়ে। পবিত্র কোরআনের সুরা নাজমে স্পষ্ট বলা হয়েছে মানুষ যেন নিজেকে সম্পূর্ণ নিষ্পাপ বা পবিত্র দাবি না করে, কারণ অন্তরের গভীরের তাকওয়া একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। এই নির্দেশনা মনে রাখলে মানুষ নিজেকে নিয়ে ভুল ধারণার ফাঁদে পড়ে না এবং চারপাশের মানুষের সামনে অহংকারী হওয়া থেকে রক্ষা পায়।
ইসলামের নির্দেশ অনুযায়ী, কেউ কোনো মেধা, সুন্দর স্বভাব বা ভালো কাজের প্রশংসা করলে প্রথমেই স্মরণে আনা দরকার যে এই গুণাবলি মানুষের নিজস্ব কোনো অর্জন নয়। সুরা নাহলে উল্লেখ আছে, মানুষের কাছে যা কিছু নিয়ামত রয়েছে তার সবই সৃষ্টিকর্তার অনুগ্রহ। তাই মুখে ও অন্তরে নির্দ্বিধায় 'আলহামদুলিল্লাহ' বলে সব প্রশংসা আল্লাহর দরবারে অর্পণ করাই হলো প্রকৃত বিশ্বাসীর চরিত্র। মানুষ কেবল প্রকাশ্য ভালো কাজটুকু দেখে, কিন্তু সেই কাজের পেছনে শক্তি জোগান স্বয়ং আল্লাহ।
পরিশেষে প্রশংসার মুখে আত্মনিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং নিজের ভেতরের দুর্বলতাগুলো নিয়ে সচেতন থাকা মানুষের নৈতিক চরিত্রকে আরও মজবুত করে। স্তুতি শুনে আনন্দিত হওয়ার পাশাপাশি যদি আল্লাহর ভয় এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত থাকে, তবে সমাজ থেকে দাম্ভিকতা দূর হয়। নিজের সাফল্যকে আল্লাহর দান হিসেবে মেনে নিয়ে নম্রতা বজায় রাখাই যেকোনো পরিস্থিতিতে আত্মিক প্রশান্তি বজায় রাখার মূল পথ।
“সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে লাইক ও কমেন্টের মাধ্যমে প্রশংসা পাওয়া অত্যন্ত সহজ হয়ে গেছে। কিন্তু এই ক্ষণস্থায়ী স্তুতি মানুষকে অনেক সময় অহংকারী বানিয়ে ফেলে। ইসলামি জীবনাচরণের এই বিনয়ী দর্শন মানুষকে মাটিতে পা রেখে চলতে শেখায় এবং সামাজিক সহমর্মিতা রক্ষা করতে সহায়তা করে।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



