পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল কলেজছাত্রী নাফিসার
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

চট্টগ্রামে এইচএসসি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নাফিসা নাওয়াল নামের এক কলেজশিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে পতেঙ্গা এলাকায় অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেলে চড়ে যাওয়ার সময় একটি ট্রাকের ধাক্কায় তিনি প্রাণ হারান।
- পতেঙ্গা নেভি হাসপাতাল গেটের সামনে অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় টোয়িং ট্রাকের ধাক্কায় নাফিসা মারা যান।
- নিহত নাফিসা সিএমপি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলেন।
- হাসপাতালের মর্গে মেয়ের লাশের পাশে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর বাবা মামুন মিয়া।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সকালে হাসিমুখে বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়েছিলেন আঠারো বছর বয়সী নাফিসা নাওয়াল। তবে তাঁর আর পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো হয়নি। পথেই এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা থানার নেভি হাসপাতাল গেটের বিপরীতে সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নাফিসা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) স্কুল অ্যান্ড কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাফিসা নগরের কাঠগড় এলাকার বাসিন্দা হলেও তাঁদের গ্রামের বাড়ি বরগুনা জেলায়। শনিবার তাঁর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষা ছিল। কেন্দ্রে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য তিনি একটি অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল সেবায় ওঠেন। পথিমধ্যে একটি ভারী ‘টোয়িং’ ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় ছিটকে পড়েন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় এক শিক্ষানবিশ চিকিৎসক তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের মর্গের সামনে মেয়ের মরদেহের পাশে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন বাবা মামুন মিয়া। শোকে বিহ্বল হয়ে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, মেয়েকে নিয়ে তাঁর অনেক স্বপ্ন ছিল এবং পরীক্ষা শেষে তাঁকে ডিফেন্সে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি আক্ষেপ করে জানান, পরীক্ষার মাত্র কয়েকটা দিন বাকি থাকতেই এই দুর্ঘটনায় তাঁর সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। স্বজনরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
নাফিসার এমন অকালমৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে যান তাঁর কলেজের উপাধ্যক্ষ ববি বড়ুয়াসহ শিক্ষক ও সহপাঠীরা। শিক্ষকেরা জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও তিনি বেশ সক্রিয় ছিলেন এবং কলেজের ‘অগ্রণী হাউসের’ দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তরুণ এই শিক্ষার্থীর এমন করুণ বিদায়ে পুরো কলেজ ক্যাম্পাস ও পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
“শহরে প্রতিনিয়ত অনিয়ন্ত্রিত যানচলাচল ও সড়ক দুর্ঘটনার কারণে তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি বাড়ছে। বিশেষ করে পরীক্ষার মৌসুমে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং নগরীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে ভারী যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



