শ্রেণিকক্ষে মাথার ওপর ছিঁড়ে পড়ল চলন্ত ফ্যান, গুরুতর আহত স্কুলছাত্রী
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

দেশের একটি বিদ্যালয়ে পাঠদান চলাকালে শ্রেণিকক্ষের সিলিং ফ্যান ছিঁড়ে পড়ে এক স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। এই ঘটনাটি সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জরাজীর্ণ অবকাঠামো এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকে আবারও সামনে এনেছে। আহত শিক্ষার্থীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং এ নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
- শ্রেণিকক্ষে চলন্ত সিলিং ফ্যান ছিঁড়ে পড়ে এক স্কুলছাত্রী গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
- ঘটনার তদন্তে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন এবং বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব নিয়ে অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চলাকালে আকস্মিকভাবে সিলিং ফ্যান ছিঁড়ে মাথায় পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে এক স্কুলছাত্রী। সহপাঠীদের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় শ্রেণিকক্ষে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান শিক্ষকেরা। প্রতিদিনের মতো ক্লাস করতে এসে এভাবে দুর্ঘটনার শিকার হওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না সহপাঠী ও অভিভাবকেরা। এই ঘটনাটি দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শ্রেণিকক্ষের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভঙ্গুর দশাকে অত্যন্ত নগ্নভাবে উন্মোচিত করেছে।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল তো বটেই, এমনকি শহরাঞ্চলেও বহু সরকারি ও বেসরকারি স্কুল ভবনের অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ। বছরের পর বছর ধরে সিলিং ফ্যান, বৈদ্যুতিক তার এবং ছাদের প্লাস্টার সংস্কার না করায় এগুলো প্রতিনিয়ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নিয়মিত তদারকির অভাব এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগেও দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাদের প্লাস্টার খসে পড়া কিংবা ফ্যান পড়ে শিক্ষার্থী আহত হওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। যথাযথ বাজেট বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কেন বিদ্যালয়গুলোর নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা করা হয় না, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত কমিটি গঠনের আশ্বাস দিয়েছেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে ওই শ্রেণিকক্ষের পাঠদান স্থগিত রেখে জরুরি ভিত্তিতে সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আহত শিক্ষার্থীর মাথায় আঘাত লেগেছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এদিকে ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা স্কুলের সামনে জড়ো হয়ে অবহেলার জন্য দায়ী পরিচালনা কমিটির সদস্যদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় শিক্ষা অফিস থেকে জানানো হয়েছে, উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করা হচ্ছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাবে শ্রেণিকক্ষগুলো আজ শিক্ষার্থীদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। কেবল দুর্ঘটনা ঘটার পর তদন্ত কমিটি গঠন বা সাময়িক আশ্বাস দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি স্থায়ী ও স্বাধীন অডিট সেল গঠন করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, অবহেলার এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
“এই দুর্ঘটনাটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার চরম ঘাটতিকে নির্দেশ করে। কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত নিরাপত্তা অডিট জরুরি।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



