কলকাতার হোটেল অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষসহ চারজনের মরদেহ দেশে, অশ্রুসিক্ত বিদায়
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

ভারতে কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো কুষ্টিয়ার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মরদেহ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে আনা হয়েছে। কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায় গভীর রাতে মরদেহ পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
- কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর ছেলেসহ পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে কুষ্টিয়ায় আনা হয়েছে।
- মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স আড়ুয়াপাড়ায় পৌঁছালে হাজারো শোকার্ত মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হন এবং পরে কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
- এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পরিবারটিতে এখন কেবল দেবাশীষের বৃদ্ধ বাবা-মা, সাত বছরের কন্যা এবং এক অসুস্থ বোন জীবিত রয়েছেন।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
ভারতের কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো কুষ্টিয়ার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মরদেহ দেশে ফেরার পর এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে মরদেহবাহী দুটি অ্যাম্বুলেন্স যখন কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ায় পৌঁছায়, তখন সেখানে হাজারো মানুষের ঢল নামে। স্বজনদের আহাজারি আর সহকর্মীদের নীরব অশ্রুতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা কেবল একটি পরিবারের স্বপ্নই গুঁড়িয়ে দেয়নি, বরং পুরো কুষ্টিয়া জেলা জুড়েই গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
নিহত দেবাশীষ দত্ত তাঁর পরিবার নিয়ে কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমে সুনামের সাথে কাজ করছিলেন। কলকাতায় সপরিবারে বেড়াতে গিয়ে একটি বহুতল হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের শিকার হন তারা, যেখানে তিনিসহ তাঁর স্ত্রী, ছোট ছেলে ও শ্বশুর প্রাণ হারান। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডটি বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং হোটেলগুলোর অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে পুনরায় সামনে এনেছে। ঘটনার পর থেকে পরিবারটিতে এখন কেবল তাঁর বৃদ্ধ পিতা-মাতা, সাত বছর বয়সী কন্যা মহিমা এবং এক অসুস্থ বোন অবশিষ্ট রয়েছেন, যাদের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মরদেহগুলো দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ বিশেষ তৎপরতা দেখায়, যার ফলে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়। কুষ্টিয়ায় মরদেহ পৌঁছানোর পর স্থানীয় সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা তরুণ সংঘ পাঠাগারের সামনে কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। গভীর রাতে কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে বাবা দেবাশীষ ও তাঁর ছেলে শর্ণশীষ দত্তের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার সময় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আন্তর্জাতিক হোটেলগুলোর অগ্নি-নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে তদারকি করার প্রয়োজনীয়তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত কূটনৈতিক সহায়তা ও আইনি প্রক্রিয়া সহজতর করতে দূতাবাসগুলোর সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা আবশ্যক। একই সাথে, অকালে ঝরে যাওয়া এই সাংবাদিক পরিবারের একমাত্র বেঁচে থাকা নাবালিকা সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পুনর্বাসনে রাষ্ট্র ও গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে মানবিক দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। কেবল শোক প্রকাশ নয়, বরং এমন ট্র্যাজেডি রোধে বৈশ্বিক পর্যটন খাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
“কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তের সপরিবারে মৃত্যু পর্যটন খাতে অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম অবহেলাকে নির্দেশ করে। এই ট্র্যাজেডিতে বেঁচে যাওয়া একমাত্র নাবালিকা সন্তান ও বৃদ্ধ পিতা-মাতার পুনর্বাসনে রাষ্ট্র ও গণমাধ্যমকে দীর্ঘমেয়াদী দায়িত্ব নিতে হবে।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



