Read in English
পাঠক সুবিধা:
রাজনীতি

রাজনৈতিক ইশতেহারে প্রতিশ্রুত ‘সত্য ও পুনঃসমঝোতা কমিশন’ ফাইলবন্দি, উপেক্ষিত জাতীয় ঐক্যের তাগিদ

চলতি ডেস্কআজ
১০ বার পঠিতপড়ার সময়: মিনিট
এআই নিউরাল অডিও সংবাদ

১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

০০:০০গুগল নিউরাল অডিও ভয়েস০০:০০
রাজনৈতিক ইশতেহারে প্রতিশ্রুত ‘সত্য ও পুনঃসমঝোতা কমিশন’ ফাইলবন্দি, উপেক্ষিত জাতীয় ঐক্যের তাগিদ
পূর্ণাঙ্গ ভিউ
ছবি: সংগৃহীত • চলতি নিউজ স্পেশাল কাভারেজ
একনজরে মূল বিষয় ও সারসংক্ষেপ

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংঘাত ও বিভেদ নিরসনে বিভিন্ন দলের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘সত্য ও পুনঃসমঝোতা কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। নতুন সরকার গঠনের ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও জাতীয় সংসদ বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এ নিয়ে কোনো কার্যকর আলোচনা শুরু হয়নি, যা রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতিকে নির্দেশ করে।

গুরুত্বপূর্ণ ৩টি তথ্য
  • বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ প্রধান দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে ‘সত্য ও পুনঃসমঝোতা কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও সরকার গঠনের ৬ মাস পরও তা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
  • রাজনৈতিক দলগুলো বর্তমান স্থবিরতার জন্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের অপরাধ স্বীকার না করা এবং তাদের পক্ষ থেকে আসা অব্যাহত হুমকিকে প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করছে।
  • ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, পরবর্তী বিভিন্ন আমলের রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ক্ষত নিরাময়ে একটি স্বাধীন সত্য কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।
বিজ্ঞাপনটেক একাডেমি বাংলাদেশ

আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প

ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!

ভর্তি হতে ক্লিক করুন

বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাত, প্রতিহিংসা ও বিভাজনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলো ‘সত্য ও পুনঃসমঝোতা’ commission গঠনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা এখন কেবলই কাগুজে দলিলে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি বৈষম্যহীন ও শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই কমিশন গঠনের কোনো দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। সাধারণ নাগরিক ও বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল, অতীতের রাজনৈতিক নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু মীমাংসার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের পথ সুগম হবে। তবে ক্ষমতার পালাবদলের পর ছয় মাস অতিবাহিত হলেও এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় এজেন্ডাটি নীতিনির্ধারকদের আলোচনার টেবিল থেকে সম্পূর্ণ হারিয়ে গেছে।

নির্বাচনী ইশতেহারগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী তাদের ইশতেহারে ‘ট্রুথ অ্যান্ড হিলিং কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠনের কথা বলেছিল। এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ‘সমন্বিত সর্বদলীয় সত্যানুসন্ধান ও বিভেদ নিরসন’ কমিশন গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা ও নির্যাতন থেকে শুরু করে পরবর্তী বিভিন্ন সরকারের আমলে গুম, খুন এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ও সত্য উদঘাটনের জন্য এ ধরনের কমিশন অপরিহার্য ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর এই প্রতিশ্রুতিগুলো কেবলই ভোটারদের আকৃষ্ট করার কৌশল ছিল কিনা, তা নিয়ে এখন জনমনে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র ছয় মাস পার হয়েছে এবং এই স্বল্প সময়ে এত বড় একটি কমিশন গঠন করা প্রযুক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে জটিল। তাছাড়া, বিগত স্বৈরাচারী শাসনের জন্য দায়ী দল আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত তাদের অতীত অপরাধ স্বীকার করেনি এবং তাদের পক্ষ থেকে নানামুখী হুমকি অব্যাহত রয়েছে বলে দলগুলো অভিযোগ করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও প্রাথমিক পর্যায়ে এ ধরনের একটি কমিশনের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও বর্তমানে তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় এটি স্থান পাচ্ছে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলগুলোর সদিচ্ছার অভাব এবং পারস্পরিক অবিশ্বাসের কারণে এই কমিশন গঠনের প্রক্রিয়াটি শুরুতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে।

চলতি নিউজের সম্পাদকীয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশে টেকসই গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য অতীতের ক্ষত নিরাময় এবং সত্যের মুখোমুখি হওয়া অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলো যখন ক্ষমতা বা প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকে, তখন জাতীয় ঐক্যের মতো দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারগুলো উপেক্ষিতই থেকে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকা বা রুয়ান্ডার মতো সফল আন্তর্জাতিক মডেলগুলো অনুসরণ করে বাংলাদেশেও একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সত্য কমিশন গঠন করা প্রয়োজন, যা কেবল অপরাধীদের চিহ্নিত করবে না বরং জাতীয় ক্ষমার পথ তৈরি করবে। রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিকে কেবল নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার হাতিয়ার না বানিয়ে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে অবিলম্বে এই কমিশন গঠনে ঐকমত্যে পৌঁছানো।

চলতি নিউজ দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণ • নিরপেক্ষ এআই মতামত

সত্য ও পুনঃসমঝোতা কমিশন গঠনকে কেবল রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে ব্যবহার না করে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও পারস্পরিক আস্থার অভাব দূর না হলে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা সুদূরপরাহতই থেকে যাবে।

প্রতিবেদনটি বস্তুনিষ্ঠ সম্পাদকীয় নীতি ও মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করে প্রকাশিত।
চলতি ডিজিটাল নিউজরুম