সরকারি ব্যাংকের শীর্ষ পদে অভিজ্ঞতার শর্ত সহজ করল সরকার
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের নীতিমালায় ফের পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, বিশেষ দক্ষতা ও সুনাম থাকলে শীর্ষ পদের ঠিক আগের পদে দুই বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করা যাবে। গত নয় মাসের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এমডি নিয়োগের নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হলো।
- সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বিডিবিএল ও বেসিক ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী নিয়োগে অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করার সুযোগ তৈরি হলো।
- এমডি পদের ঠিক নিচের পদে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতার নিয়ম থাকলেও বিশেষ ক্ষেত্রে তা ছাড় দেওয়া যাবে।
- নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর কাজের রেকর্ড, নেতৃত্বের দক্ষতা, গোয়েন্দা তথ্য এবং দুদকের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে জারি করা নতুন নির্দেশনায় অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বিডিবিএল ও বেসিক ব্যাংকের শীর্ষ পদে বসার ক্ষেত্রে নির্ধারিত কিছু শর্ত আর আগের মতো কড়াকড়ি থাকছে না। গত নয় মাসের মধ্যে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এই শীর্ষ পদগুলোর নিয়োগ নীতিমালায় সংশোধন আনা হলো।
আগের নিয়মে এসব ব্যাংকের এমডি হতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কোনো ব্যাংকে অন্তত ২০ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এমডি পদের ঠিক নিচের পদে কমপক্ষে দুই বছর দায়িত্ব পালনের শর্ত ছিল। নতুন নীতিমালায় সামগ্রিক ২০ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত বহাল থাকলেও নিচের পদে দুই বছর থাকার বাধ্যবাধকতা শিথিল করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, কোনো প্রার্থীর যদি অসাধারণ পেশাগত দক্ষতা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তি থাকে, তবে তাকে বিবেচনা করতে এই ছাড় দেওয়া যাবে। তবে বয়সসীমা আগের মতোই ৪৫ থেকে ৬৫ বছর এবং চুক্তির মেয়াদ তিন বছর রাখা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, সরকার সরাসরি কোনো ব্যাংকে এমডি নিয়োগ দেয় না, বরং নির্দিষ্ট নাম মনোনয়ন দেয়। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনাপত্তি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নিয়োগের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংক ছাড়াও বিশেষায়িত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পদ নিয়োগের ক্ষমতাও সরকারের হাতেই রয়েছে। সংশোধিত নিয়মে বলা হয়েছে, শুধু জ্যেষ্ঠতা দেখে পদোন্নতি দেওয়া হবে না; প্রার্থীর কাজের ট্র্যাক রেকর্ড, ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ শাখায় দায়িত্ব পালনের ইতিহাস এবং শিক্ষাজীবনের মান গুরুত্ব পাবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো দীর্ঘদিন ধরেই খেলাপি ঋণসহ নানা ধরনের অব্যবস্থাপনায় ভুগছে। ফলে শীর্ষ পদে স্বচ্ছতা ও দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন জানান, সরকারি ব্যাংকগুলোকে কার্যকর রাখতে হলে রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে গিয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। একই সাথে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রার্থীর অতীত সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে ব্যাংকিং খাতে কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।
“সরকারি ব্যাংকগুলোর পরিচালনায় বারবার নিয়ম পরিবর্তন করা হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠার ঝুঁকি থাকে। তবে শর্ত শিথিলের পেছনে যদি সত্যিই দক্ষ ও গতিশীল নেতৃত্ব আনার উদ্দেশ্য থাকে, তবে তা স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে। খেলাপি ঋণ কমাতে শীর্ষ পদে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”
এই বিভাগের আরও সংবাদ
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।

