টঙ্গীতে মাদ্রাসা শিক্ষককে মারা শিশুটির বাবাকে গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

গাজীপুরের টঙ্গীতে ছয় বছর বয়সী মেয়েকে হেনস্তার পর মাদ্রাসার শিক্ষককে মারধর করার ঘটনায় আলোচিত বাবা শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারের অবস্থান থেকে সরে এসেছে পুলিশ। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ এনে মামলা করলেও প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের আশ্বাসে জানানো হয়েছে যে রুমিকে গ্রেপ্তারে কোনো অভিযান চালানো হচ্ছে না।
- টঙ্গীর ক্বরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় শিশু হেনস্তায় অভিযুক্ত ভাইস প্রিন্সিপালকে গ্রেপ্তার করে আগেই আদালতে পাঠানো হয়েছে।
- শিক্ষককে মারধর ও প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের অভিযোগে অধ্যক্ষের করা মামলায় শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিকে পুলিশ খুঁজছে বলে শুরুতে খবর ছড়িয়েছিল।
- প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার পর স্পষ্ট করা হয়েছে যে বাবা রুমিকে আটক করার কোনো সিদ্ধান্ত পুলিশ বা সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
গাজীপুরের টঙ্গীতে ছয় বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে যৌন হেনস্তার জেরে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করা শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় নিজের কন্যাসন্তান লাঞ্ছিত হওয়ার খবর পেয়ে ছুটে যান রুমি এবং সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষকের ওপর চড়াও হন। প্রথমে পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনার কথা জানালেও দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার পর পুলিশ অবস্থান পরিবর্তন করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ক্বরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায়। প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেম আহমদের বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী ওই ছাত্রীকে অনৈতিকভাবে স্পর্শ ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করলে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। তবে ঘটনার দিনই শিশুটির বাবাসহ ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষককে মারধর করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী উল্টো প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ এনে রুমিসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুরুতে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে মাদ্রাসায় ঢুকে মারধর আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হওয়ায় রুমিকে গ্রেপ্তারে টিম নামানো হয়েছে। তবে এ খবর প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। পরে সরকারের রাজনৈতিক উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের আলোচনা হয়। শনিবার রাতে নিশ্চিত করা হয় যে শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারের কোনো নির্দেশনা বা অভিযান পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকর করা হচ্ছে না এবং এ বিষয়ে কোনো ভুল বোঝাবুঝি না রাখার অনুরোধ জানানো হয়।
এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ধর্মীয় মহল ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রুমিকে লক্ষ্য করে কিছু উগ্র বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, যৌন অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কোনো অভিভাবক যেন আইনি ব্যবস্থার গ্যাঁড়াকলে পড়ে নতুন করে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে প্রশাসনের সর্বোচ্চ নজর রাখা দরকার।
“টঙ্গীর এই ঘটনা আমাদের বিচারব্যবস্থা ও ক্ষুব্ধ নাগরিক প্রতিক্রিয়ার মধ্যকার ভারসাম্যহীনতাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। নিজ শিশু যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হেনস্তার শিকার হয়, তখন একজন বাবার তাৎক্ষণিক ক্ষোভ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত স্বাভাবিক হলেও প্রতিষ্ঠানের পাল্টা মামলা এবং পুলিশের প্রাথমিক অবস্থান জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। তবে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি অনুধাবন করে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। এখন সবচেয়ে জরুরি হলো শিশু নির্যাতনকারী শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে যেকোনো প্রতিশোধমূলক হামলা থেকে সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়া।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



