এমপি করলেন ইউপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা, হাততালি দিয়ে বিপাকে ইউএনও
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে বিএনপির ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন স্থানীয় এমপি জাহিদুর রহমান। এ সময় পাশে বসে ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদার হাততালি দেন, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
- ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান পূজামণ্ডপে এক বিএনপি নেতাকে ইউপি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
- এমপির পাশে বসে পীরগঞ্জের ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদার হাততালি দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।
- ইউএনও দাবি করেছেন হাততালি দেওয়া অনিচ্ছাকৃত ছিল, তবে নাগরিক সমাজ মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে দুর্গাপূজার একটি মণ্ডপে গিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। আর তাঁর এমন রাজনৈতিক ঘোষণায় পাশে বসে হাততালি দিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার। ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের বিএনপিদলীয় এমপি জাহিদুর রহমান বক্তব্য দিতে গিয়ে ভোটারদের কাছে ওই প্রার্থীর পক্ষে ভোট চান। সরকারি কর্মকর্তা হয়ে এমন প্রকাশ্য রাজনৈতিক বক্তব্যে ইউএনওর হাততালি দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
গত ১৯ অক্টোবর পীরগঞ্জ উপজেলার সেনগাঁও ইউনিয়নের আমতলী পূজামণ্ডপে এ ঘটনা ঘটে। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে এমপি জাহিদুর রহমানের সঙ্গে পরিদর্শনে যান ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদার, থানার ওসিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। মণ্ডপে দেওয়া বক্তব্যে এমপি স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে আসন্ন ইউপি নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন এবং উপস্থিত সবাইকে তাঁর পক্ষে মাঠে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় এমপির পাশে বসা ইউএনওকে উৎসাহ নিয়ে হাততালি দিতে দেখা যায়। সম্প্রতি এই ভিডিও এবং এক সাংবাদিকের সঙ্গে ইউএনওর উত্তপ্ত কথোপকথনের অডিও নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়।
বিতর্কের মুখে পড়ে পীরগঞ্জের ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদার দাবি করেন, এমপির সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব হিসেবেই তিনি পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সেখানে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া হবে বা প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে তা তাঁর জানা ছিল না। হাততালি দেওয়ার বিষয়টি অনিচ্ছাকৃত ছিল বলে দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে ক্ষুব্ধ সাংবাদিকের সঙ্গে কথার বিষয়ে তিনি বলেন, একান্ত ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকেই তিনি কথাগুলো বলেছিলেন। তবে প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার এমন অসতর্ক আচরণ সহজে মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয় সচেতন মহল।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে মাঠ প্রশাসনের এমন আচরণে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। ঠাকুরগাঁও জেলা সুজন ও বাম গণতান্ত্রিক নেতারা মনে করছেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর পক্ষে এমন মনোভাব দেখালে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে নিরপেক্ষতা নষ্ট হতে পারে। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রশাসনের ভাবমূর্তি রক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
“প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের যেকোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা দলীয় পক্ষপাতমূলক আচরণ থেকে দূরে থাকা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। একটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে সংসদ সদস্যের প্রকাশ্য নির্বাচনী প্রচারণার সময় মাঠপর্যায়ের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তার হাততালি দেওয়া প্রশাসনিক নিরপেক্ষতাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি অটুট রাখা জরুরি।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



