Read in English
পাঠক সুবিধা:
আন্তর্জাতিকঢাকা

মিয়ানমারের সামরিক সরকারের দিকে ঝুঁকছে ট্রাম্প প্রশাসন

চলতি ডেস্কআজ
১০ বার পঠিতপড়ার সময়: ২ মিনিট
এআই নিউরাল অডিও সংবাদ

১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

০০:০০গুগল নিউরাল অডিও ভয়েস০০:০০
মিয়ানমারের সামরিক সরকারের দিকে ঝুঁকছে ট্রাম্প প্রশাসন
পূর্ণাঙ্গ ভিউ
ছবি: সংগৃহীত • চলতি নিউজ স্পেশাল কাভারেজ
একনজরে মূল বিষয় ও সারসংক্ষেপ

মিয়ানমারের সামরিক জান্তাকে একঘরে রাখার দীর্ঘদিনের নীতি থেকে সরে আসছে ওয়াশিংটন। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা মাইকেল ভ্যান্স রাজধানী নেপিডোতে জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন। আটক এক মার্কিন নাগরিককে ছাড়ানোর উদ্দেশ্য বলা হলেও, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার ইঙ্গিত মিলছে।

গুরুত্বপূর্ণ ৩টি তথ্য
  • ২০২১ সালের সেনা অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম কোনো শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা জান্তাপ্রধানের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করলেন।
  • মিয়ানমারের ওপর থাকা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
  • আটক মার্কিন নাগরিককে মুক্ত করার অজুহাতে বৈঠক শুরু হলেও আলোচনা হয়েছে দ্বিপাক্ষিক নানা স্বার্থ নিয়ে।
বিজ্ঞাপনটেক একাডেমি বাংলাদেশ

আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প

ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!

ভর্তি হতে ক্লিক করুন

মিয়ানমারের ক্ষমতা দখলকারী সামরিক সরকারকে বিশ্বমঞ্চে একঘরে রাখার দীর্ঘদিনের নীতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে সম্প্রতি নেপিডোতে গিয়ে জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেছেন শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা মাইকেল ভ্যান্স। ২০২১ সালে গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম ওয়াশিংটনের কোনো শীর্ষ কূটনীতিকের সঙ্গে জান্তাপ্রধানের এমন সরাসরি আলোচনা হলো। শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমারের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও তুলে নেওয়া হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার নতুন বার্তা দিচ্ছে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর মিয়ানমারের ওপর একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল আমেরিকা। তবে গত ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ও গবেষণাবিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট মাইকেল ভ্যান্স রাজধানী নেপিডোতে গিয়ে সামরিক সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়, আটক মার্কিন নাগরিক অ্যাডাম কাস্তিলোকে ছাড়িয়ে আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্সের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে গত জুনে তাঁকে আটক করেছিল জান্তা পুলিশ। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আলোচনার পরিধি কেবল একজন বন্দি মুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না।

নেপিডো সফরের আগেও পর্দার আড়ালে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছিল ট্রাম্প প্রশাসন। জানা গেছে, গত জুন মাসে এবং চলতি মাসেও জাপানের টোকিওতে মিয়ানমারের সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জান্তাবিরোধী বিদ্রোহী পক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন মাইকেল ভ্যান্স। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন মিয়ানমারের সামরিক ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যবসায়ীর নাম অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ অঞ্চলের ভূরাজনীতি এবং বিশেষ করে চীনের প্রভাব মোকাবিলার কৌশল থেকেই যুক্তরাষ্ট্র এখন জান্তার সঙ্গে একটি সমঝোতামূলক পথ খুঁজছে।

ওয়াশিংটনের এই নতুন অবস্থানের কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সামরিক জান্তাকে বৈধতা না দেওয়ার পুরনো অবস্থান থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের এই পিছু হটাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মধ্যে প্রশ্ন উঠছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মিয়ানমারে চলমান সংঘাত, বাণিজ্য এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিজেদের স্বার্থ ধরে রাখতেই সামরিক সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের এই নতুন পথ বেছে নিয়েছে আমেরিকা।

চলতি নিউজ দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণ • নিরপেক্ষ এআই মতামত

“গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রশ্নে কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে ট্রাম্প প্রশাসন দৃশ্যত বাস্তবতাভিত্তিক কূটনীতি বেছে নিচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় চীনের আধিপত্য কমাতে মিয়ানমারের ওপর সরাসরি প্রভাব ধরে রাখাই ওয়াশিংটনের এই নীতি পরিবর্তনের মূল কারণ বলে মনে হচ্ছে।”

প্রতিবেদনটি বস্তুনিষ্ঠ সম্পাদকীয় নীতি ও মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করে প্রকাশিত।
চলতি ডিজিটাল নিউজরুম