রামপালে নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী, স্থায়ী পাইলিং বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

বাগেরহাটের রামপালে তীব্র নদীভাঙনে বিলীন হওয়া এলাকা পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। ভাঙনকবলিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুততম সময়ে টেকসই পাইলিং বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে পশুর ও মোংলা নদীর ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
- পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বাগেরহাটের রামপালে নদীভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত টেকসই পাইলিং বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন।
- পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়ে ভাঙনপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
- স্থানীয় বাসিন্দারা পশুর ও মোংলা নদীর ভাঙন রোধে অস্থায়ী জিওব্যাগের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদী ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় পশুর ও মোংলা নদীর তীব্র ভাঙনে দিশেহারা উপকূলীয় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। সম্প্রতি তিনি ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেন। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি এবং তীব্র স্রোতের কারণে এই অঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিমন্ত্রীর এই সফর স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী ও কার্যকর বাঁধের জন্য অপেক্ষা করছেন। ভাঙন রোধে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে রামপাল উপজেলাটি সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে অবস্থিত এবং এখানকার নদীগুলো অত্যন্ত প্রমত্তা ও জোয়ার-ভাটা প্রবণ। জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নদীভাঙনের তীব্রতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও বাস্তুতন্ত্রকে হুমকির মুখে ফেলেছে। বিগত কয়েক বছরে শত শত পরিবার তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগী জনগণের অভিযোগ, অতীতে নেওয়া অস্থায়ী বালুর বস্তা বা জিওব্যাগ ফেলার উদ্যোগগুলো দীর্ঘমেয়াদে কোনো সুফল বয়ে আনতে পারেনি। ফলে এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি স্থায়ী ও আধুনিক প্রকৌশলগত সমাধান অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত একটি টেকসই পাইলিং বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেন। তিনি জানান, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প প্রণয়ন করা হচ্ছে যাতে বর্ষা মৌসুমের আগেই কাজ শুরু করা যায়। স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ভাঙনকবলিত পয়েন্টগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং জরুরি সহায়তার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিমন্ত্রীর এই আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন যাতে তাদের আর বাস্তুচ্যুত হতে না হয়।
উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙন রোধে কেবল ঐতিহ্যগত বাঁধ নির্মাণ বা পাইলিংয়ের ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদী ও পরিবেশবান্ধব কৌশলের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এর আলোকে নদী খনন ও প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনায়নের মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধের টেকসই মডেল গড়ে তুলতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও অর্থায়নের ঘাটতি দূর করে দ্রুত কাজ শেষ করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ যদি কেবল আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হয়, তবেই রামপালের হাজারো মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষা পাবে।
“উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙন রোধে কেবল সাময়িক বাঁধ নির্মাণ যথেষ্ট নয়, বরং ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এর আলোকে পরিবেশবান্ধব ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করাই এখন প্রশাসনের মূল চ্যালেঞ্জ।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



