নিষেধাজ্ঞায় খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে ইরানিরা: পেজেশকিয়ান
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের বহু পরিবার দুবেলা খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে বলে খোলামেলা স্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
- যুদ্ধকালীন সংকট ও নিষেধাজ্ঞায় বহু মানুষ খাবার সংকটে পড়েছেন বলে স্বীকার করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
- বর্তমান পরিস্থিতিকে 'যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়' আখ্যা দিয়ে এই অচলাবস্থা থেকে বের হয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
- যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হামলার চেয়ে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকে বেশি নজর দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার জেরে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম সংকটে পড়েছে। দেশটির বহু পরিবার এখন দুবেলা খাবার জোগাড় করতে রীতিমতো লড়াই করছে বলে প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শনিবার দেওয়া এক বক্তব্যে দেশের সাধারণ মানুষের এই করুণ অর্থনৈতিক দশার কথা তিনি অকপটে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ভূরাজনৈতিক সংঘাতের সরাসরি আঘাত পড়ছে সাধারণ ইরানিদের দৈনন্দিন খাদ্য নিরাপত্তার ওপর।
প্রেসিডেন্টের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই বক্তব্যে পেজেশকিয়ান জানান, দেশ যে কঠিন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার বড় মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন সামরিক অভিযানের তীব্রতা কিছুটা কমিয়ে তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ ও চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে। ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে মারাত্মক মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে এবং সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য পরিবারের আহার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে উঠেছে।
বর্তমান এই সংকটময় অবস্থাকে 'যুদ্ধও নয়, আবার শান্তিও নয়' বলে আখ্যায়িত করেছেন পেজেশকিয়ান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো মূল্যে দেশকে এই বন্দিদশা ও অচলাবস্থা থেকে বের করে আনতে হবে। একইসঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা বানচাল করার চেষ্টা করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অযৌক্তিক অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক হুমকি বন্ধ না করলে কোনো ধরনের সমঝোতা আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না।
কূটনৈতিক অচলাবস্থার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও দিন দিন জোরালো হচ্ছে। তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন কর্মকর্তা টম ব্যারাকের সাম্প্রতিক বক্তব্যে নতুন করে ইরানে মার্কিন হামলার সম্ভাবনার বিষয়টি সামনে এসেছে। একদিকে সামরিক হামলার শঙ্কা, অন্যদিকে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট—সব মিলিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তেহরান। সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে পেজেশকিয়ানের প্রশাসন কীভাবে এই কূটনৈতিক জট ছাড়ায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
“মাসুদ পেজেশকিয়ানের এই অকপট স্বীকারোক্তি ইঙ্গিত দেয় যে, তেহরান অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ক্ষোভ প্রশমনে চরম চাপে রয়েছে। খাদ্য সংকট প্রকাশ্যে আনার মাধ্যমে প্রশাসন হয়তো পশ্চিমাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার মানবিক দিকটি তুলে ধরে কূটনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্র তৈরি করতে চাইছে।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



