মন্ত্রীরা নিজেরা পাহারায় নামলে প্রশাসনের কাজের শৃঙ্খলা থাকবে কীভাবে
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারে গিয়ে ওসির বদলি এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে প্রতিমন্ত্রীর রাত জেগে পাহারা দেওয়ার মতো ঘটনা প্রশাসনের চেইন অব কমান্ড নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রত্যেকে নিজের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন না করলে এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সরাসরি কাজে নামলে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে।
- চট্টগ্রামের নগর ভবনে সন্ত্রাসী ধরতে যাওয়া ওসিকে শাস্তিমূলক বদলি করার ঘটনায় পুলিশের মনোবল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
- প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে যুব প্রতিমন্ত্রীর রাত জেগে সচিবালয় পাহারা দেওয়ার ঘটনা প্রাতিষ্ঠানিক অকার্যকারিতা তুলে ধরে।
- প্রতিটি স্তর নিজস্ব নিয়মে না চললে মাঠপর্যায়ের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায়।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
দেশের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় এখন এক অদ্ভুত অচলাবস্থা দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে এক কিশোর গ্যাং নেতাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে নগর ভবনে বাধার মুখে পড়ার অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেই (ওসি) বদলি করা হয়েছে। সিটি মেয়রের দাবি অনুযায়ী অপরাধী সেখানে না থাকলেও, দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া পুলিশ কর্মকর্তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হওয়ায় মাঠপর্যায়ে ভুল বার্তা গেছে। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আসামি ধরা পুলিশের কাজ হলেও, সেখানে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বাহিনীর স্বাভাবিক তৎপরতা স্থবির হয়ে পড়ছে।
প্রশাসনের ভেতরে প্রাতিষ্ঠানিক আস্থার অভাব কতটা প্রকট, তা সম্প্রতি যুব প্রতিমন্ত্রীর এক পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে খোদ প্রতিমন্ত্রীকেই রাতে সচিবালয়ে জেগে পাহারা দিতে দেখা গেছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, বিশাল প্রশাসনিক কাঠামো ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা থাকতে কেন একজন নীতিনির্ধারককে ব্যক্তিগতভাবে পাহারাদারের ভূমিকা নিতে হবে। এই চিত্র স্পষ্ট করে দেয় যে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে কাজ আদায়ের ব্যবস্থাটি এখন বড় ধরনের সংকটে পড়েছে।
এ ধরনের একের পর এক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনিক পদের দায়িত্ব আসলে কার। আজ যদি প্রশ্নপত্র ঠেকাতে মন্ত্রীকে রাত জাগতে হয়, তবে বিসিএস কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার ক্ষেত্রে কি কমিশনের চেয়ারম্যান বা শিক্ষামন্ত্রীকেও একই কাজ করতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত বীরত্ব বা তাৎক্ষণিক অ্যাকশন দিয়ে রাষ্ট্রের কোনো বড় সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। অপরাধ দমন কিংবা পরীক্ষা পরিচালনা—সব ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দায়বদ্ধ করে কাজ আদায় করাই সুশাসনের মূল ভিত্তি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের অনেক ক্ষেত্রে দর্শকের ভূমিকা পালন করতে দেখা যাচ্ছে। কোনো জটিল পরিস্থিতিতে কীভাবে এগোতে হবে বা আইন প্রয়োগে কতটা স্বাধীনতা থাকবে, তা নিয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে স্পষ্ট দ্বিধা কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত চেইন অব কমান্ড বা কাজের সঠিক ধারা ফিরিয়ে আনা না গেলে প্রশাসন আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। প্রত্যেকের ওপর অর্পিত দায়িত্ব কঠোরভাবে তদারকি করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
“ব্যক্তিগত তৎপরতা দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা আড়াল করা যায় না। ওসি বদলি কিংবা মন্ত্রীর রাত জেগে পাহারা দেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ করছে না। টেকসই সমাধানের জন্য প্রতিটি দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাজের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



