যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাকে ৫৩ অভিবাসীর মৃত্যু: পাচারকারীর ৩০ বছরের জেল
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে প্রচণ্ড গরমে ট্রাকের ভেতর আটকা পড়ে ৫৩ অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় রিগোবার্তো রামন মিরান্ডা-ওরোজকো নামের এক গুয়াতেমালান পাচারকারীকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির ফেডারেল আদালত।
- ২০২২ সালে টেক্সাসের সান আন্তোনিওতে পরিত্যক্ত ট্রাক থেকে ৫৩ অভিবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
- বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে প্রচণ্ড গরমে পানিশূন্য হয়ে ছয় শিশুসহ অভিবাসীদের মৃত্যু হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র ও গুয়াতেমালা মিলিয়ে এই আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের প্রায় ২০ জনকে ইতিমধ্যে সাজা দেওয়া হয়েছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে একটি পরিত্যক্ত ট্রাকের ভেতরে আটকে ৫৩ অভিবাসীর নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় মানবপাচার চক্রের অন্যতম সদস্য রিগোবার্তো রামন মিরান্ডা-ওরোজকোকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন সান আন্তোনিওর ফেডারেল আদালত। ৩৯ বছর বয়সী এই গুয়াতেমালান নাগরিক অবৈধভাবে মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে পাচার করা এবং তাদের গুরুতর ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। ২০২২ সালের আলোচিত এই প্রাণহানির ঘটনায় আন্তর্জাতিক পাচার চক্রটির বিরুদ্ধে শুরু থেকেই কঠোর অবস্থান নেয় মার্কিন বিচার বিভাগ।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৭ জুন টেক্সাসের সান আন্তোনিও শহরের উপকণ্ঠে একটি বন্ধ ট্রাক থেকে কয়েক ডজন মানুষকে উদ্ধার করেন জরুরি সেবাকর্মীরা। গুয়াতেমালা ও মেক্সিকো সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসা মোট ৬৪ জন অভিবাসী ওই ট্রাকে ছিলেন। প্রায় ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার সময় ট্রাকের শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকল হয়ে যায়। বাইরে প্রায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তীব্র গরমে ট্রাকের ভেতরের তাপমাত্রা অসহনীয় মাত্রায় পৌঁছায়। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলেই ৪৮ জনকে মৃত দেখতে পান এবং পরে হাসপাতালে মারা যান আরও পাঁচজন। নিহতদের মধ্যে ছয়টি শিশু ও একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীও ছিলেন।
তদন্তকারীরা জানান, বাঁচার জন্য অভিবাসীরা শেষ মুহূর্তে দেয়াল খামচে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং অতিরিক্ত গরমে অনেকে পোশাক পর্যন্ত খুলে ফেলেছিলেন। প্রতিজন অভিবাসীর কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর বিনিময়ে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার করে নিয়েছিল এই চক্রটি। সাজা ঘোষণার পর মার্কিন অ্যাটর্নি জাস্টিন সিমন্স এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতে ওই মানুষগুলোকে কী অবর্ণনীয় যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল, তা ভাবলেই শিউরে উঠতে হয়। এই ঘটনায় জড়িত চক্রের মূল হোতা ফেলিপে ওরদুনা-তোরেসকে আগেই যাবজ্জীবন এবং প্রধান সহযোগী আরমান্দো গনসালেস-ওর্তেগাকে ৮৩ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত থেকে সান আন্তোনিও পর্যন্ত বিস্তৃত ইন্টারস্টেট-৩৫ মহাসড়কটি মানবপাচারের একটি ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। বিপুল ট্রাকের চলাচলের সুযোগ নিয়ে পাচারকারীরা প্রায়ই অবৈধ উপায়ে অভিবাসীদের বিপজ্জনকভাবে পরিবহন করে থাকে। এই ট্র্যাজেডির পর সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন এবং মানবপাচারকারী সিন্ডিকেটগুলোর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে ট্রাকচালকসহ বাকি অভিযুক্তদের বিচার কাজ দ্রুত শেষ করার প্রক্রিয়া চলছে।
“টেক্সাসের এই ট্র্যাজেডি প্রমাণ করে যে উন্নত জীবনের স্বপ্নে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা কীভাবে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের পাতা ফাঁদে পা দেন। কঠোর আইনি সাজা পাচারকারীদের প্রতি বড় বার্তা দিলেও, নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থা এবং সীমান্ত অপরাধ চক্রের মূল উৎপাটন ছাড়া এমন মানবিক বিপর্যয় পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



