Read in English
পাঠক সুবিধা:
অপরাধ ও আইনচট্টগ্রাম

দেনমোহর না দিয়ে স্ত্রীকে আদালতে পাঠালে স্বামীকে জরিমানা

চলতি ডেস্কআজ
১০ বার পঠিতপড়ার সময়: ২ মিনিট
এআই নিউরাল অডিও সংবাদ

১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

০০:০০গুগল নিউরাল অডিও ভয়েস০০:০০
দেনমোহর না দিয়ে স্ত্রীকে আদালতে পাঠালে স্বামীকে জরিমানা
পূর্ণাঙ্গ ভিউ
ছবি: সংগৃহীত • চলতি নিউজ স্পেশাল কাভারেজ
একনজরে মূল বিষয় ও সারসংক্ষেপ

স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও দেনমোহর না দিয়ে স্ত্রীকে যদি আদালতে যেতে বাধ্য করা হয়, তবে পারিবারিক আদালত স্বামীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারবেন বলে ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মুসলিম পারিবারিক আইনে স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া কাবিননামায় ‘বিলম্বিত দেনমোহর’ চাপিয়ে দেওয়া যাবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ ৩টি তথ্য
  • স্বামীর সামর্থ্য থাকার পরও দেনমোহর না দিলে পারিবারিক আদালত ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিতে পারবে।
  • স্ত্রীর স্পষ্ট সম্মতি ছাড়া কাবিননামায় জোর করে 'বিলম্বিত দেনমোহর' লেখার কোনো সুযোগ নেই।
  • আদালতের কোনো ক্ষমতা নেই দেনমোহর মাফ করার; কেবল স্ত্রী নিজের ইচ্ছায় মাফ করলে তা বৈধ হবে।
বিজ্ঞাপনটেক একাডেমি বাংলাদেশ

আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প

ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!

ভর্তি হতে ক্লিক করুন

স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যদি দেনমোহর পরিশোধ না করে স্ত্রীকে আদালতে যেতে বাধ্য করা হয়, তবে পারিবারিক আদালত ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারবেন বলে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। 'ইয়াকুব আলী বনাম সানজিদা নাসরিন' মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিচারপতি মো. আব্দুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রকাশ করেন। রায়ে স্পষ্ট বলা হয়, মুসলিম পারিবারিক আইনে স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া কাবিননামায় 'বিলম্বিত দেনমোহর' চাপিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। স্ত্রী যখনই দাবি করবেন, তখনই তা নগদ প্রদেয় দেনমোহর হিসেবে গণ্য হবে এবং স্বামীকে দ্রুত তা পরিশোধ করতে হবে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালে ২২ লাখ টাকা দেনমোহরে সানজিদা নাসরিনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ইয়াকুব আলী। পরবর্তীতে তাদের একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। যৌতুকের দাবি ও পারিবারিক কলহের জেরে ২০১৭ সালে স্ত্রীকে তালাক দেন স্বামী। এরপর ২০১৯ সালে বকেয়া দেনমোহর, নিজের ইদ্দতকালীন খোরপোশ এবং কন্যাসন্তানের ভরণপোষণ চেয়ে চট্টগ্রামের পারিবারিক আদালতে মামলা করেন সানজিদা। ২০২২ সালের মে মাসে আদালত স্ত্রীর পক্ষে রায় দেন এবং বকেয়া দেনমোহর ও ভরণপোষণ বাবদ মোট ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা দুই মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি কন্যাসন্তানের বিয়ের আগ পর্যন্ত প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে ভরণপোষণ দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে স্বামী জেলা জজ আদালতে আপিল করলে তা খারিজ হয়ে যায়। এরপর হাইকোর্টে দেওয়ানি রিভিশন আবেদন করে ইয়াকুবের আইনজীবী দাবি করেন, ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে বাকি টাকা এককালীন দেওয়া সম্ভব নয় এবং মানবিক কারণে তা কিস্তিতে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। অন্যদিকে স্ত্রীর আইনজীবী ইশরাত হাসান যুক্তি দেখান, স্বামী যথেষ্ট সামর্থ্যবান হওয়া সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী ও সন্তানের আইনি অধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করেছেন। পারিবারিক আদালত সম্পূর্ণ তথ্যপ্রমাণ ও আইন অনুযায়ী সঠিক রায় দিয়েছে, তাই এতে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের অবকাশ নেই।

উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন। পর্যবেক্ষণে আদালত উল্লেখ করেন, আদালতের দেনমোহরের কোনো অংশ মওকুফ করার আইনি এক্তিয়ার নেই। তবে স্ত্রী চাইলে সম্পূর্ণ সচেতনভাবে ও নিজের ইচ্ছায় দেনমোহর মাফ করতে পারেন; জোরজবরদস্তি করে নেওয়া কোনো সম্মতি গ্রহণযোগ্য হবে না। এছাড়া লিখিত চুক্তির বাইরে গিয়ে দেনমোহর পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলেও আদালত উল্লেখ করেন এবং স্কুলপড়ুয়া নাবালিকা সন্তানের জন্য ধার্যকৃত মাসিক খোরপোশকে বর্তমান বাস্তবতায় সম্পূর্ণ যৌক্তিক ও যথাযথ বলে ঘোষণা করেন।

চলতি নিউজ দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণ • নিরপেক্ষ এআই মতামত

“উচ্চ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ বাংলাদেশের পারিবারিক আইনে নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। সাধারণত বিবাহবিচ্ছেদের পর বহু নারীকে দেনমোহর ও ভরণপোষণের ন্যায্য পাওনা আদায়ে বছরের পর বছর আদালতের দ্বারে ঘুরতে হয়। সামর্থ্যবান স্বামীদের এমন গড়িমসির বিপরীতে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার পারিবারিক আদালতকে সক্রিয় করার মাধ্যমে দীর্ঘসূত্রতা কমবে এবং দেনমোহরকে নিছক আনুষ্ঠানিকতা ভাবার প্রবণতা বন্ধ হবে।”

প্রতিবেদনটি বস্তুনিষ্ঠ সম্পাদকীয় নীতি ও মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাই করে প্রকাশিত।
চলতি ডিজিটাল নিউজরুম