মেগা প্রকল্পের ঋণের ভারে জর্জরিত তিন স্থলবন্দর, আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্ধেকের নিচে
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

দেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরের আধুনিকায়নে নেওয়া মেগা প্রকল্পগুলো এখন ঋণের বোঝায় পরিণত হয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় না হওয়ায় প্রকল্পগুলোর ব্যয় পুনরুদ্ধার ব্যাহত হচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য জটিলতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে এই বন্দরগুলো থেকে প্রত্যাশিত আয়ের মাত্র অর্ধেক অর্জিত হচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
- বেনাপোল, ভোমরা ও বুড়িমারী স্থলবন্দরের আধুনিকায়ন প্রকল্পে বিপুল ঋণের বিপরীতে রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রার ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
- কাস্টমস ছাড়করণে ধীরগতি, টেস্টিং ল্যাবের অভাব এবং ভারতীয় অংশের দুর্বল অবকাঠামোর কারণে ব্যবসায়ীরা এই বন্দরগুলো ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
- ঋণ পরিশোধের চাপ কমাতে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ট্যারিফ কাঠামো পুনর্নির্ধারণ এবং ভারতের সাথে কূটনৈতিক আলোচনা জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
দেশের সীমান্ত বাণিজ্যের গতিশীলতা বাড়াতে বেনাপোল, ভোমরা ও বুড়িমারী স্থলবন্দরে বিশাল অঙ্কের ঋণে বাস্তবায়িত মেগা প্রকল্পগুলো এখন বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে এসব অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও, বাস্তবে তা থেকে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আসছে না। বন্দরগুলোর আধুনিকায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর যেখানে বাণিজ্য বহুগুণ বাড়ার কথা ছিল, সেখানে আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র অর্ধেক। এই বিশাল রাজস্ব ঘাটতি কেবল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ওপর ঋণের বোঝাই বাড়াচ্ছে না, বরং জাতীয় বাজেটের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে দেশের অর্থনীতিতে এর প্রকৃত সুফল নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়নে নেওয়া এসব প্রকল্পে প্রাক্কলিত আয়ের যে হিসাব দেখানো হয়েছিল, তা বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। আমদানিকারকদের অনীহা, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সে দীর্ঘসূত্রতা এবং প্রয়োজনীয় টেস্টিং ল্যাবরেটরির অভাবের কারণে অনেক ব্যবসায়ী এই বন্দরগুলো ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এছাড়া ভারতীয় অংশে সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণেও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা সরাসরি রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রকল্প নেওয়ার সময় যে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছিল, তাতে অতিমূল্যায়ন এবং বাস্তবসম্মত বাজার বিশ্লেষণের অভাব ছিল বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন। এখন প্রতি বছর ঋণের কিস্তি পরিশোধের সময় ঘনিয়ে আসায় স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের নিজস্ব তহবিল সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বন্দরগুলোর পরিচালন দক্ষতা বাড়াতে এবং শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাথে যৌথভাবে কাজ করছে। তবে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অবকাঠামো তৈরি হলেও ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের অভাব এবং ডিজিটাল অটোমেশন পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় বন্দরে পণ্য খালাসে দিনের পর দিন সময় লেগে যাচ্ছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঋণের বোঝা কমাতে এবং আয় বাড়াতে নতুন করে ট্যারিফ কাঠামো পুনর্নির্ধারণের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মাধ্যমে ওপারে কাস্টমস ও লজিস্টিক সুবিধা বাড়ানোর জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দ্রুততম সময়ে পণ্য খালাস নিশ্চিত করা না গেলে ব্যবসায়ীদের অন্য বন্দরে চলে যাওয়া ঠেকানো সম্ভব হবে না।
চলতি নিউজের বিশ্লেষণে দেখা যায়, যথাযথ অর্থনৈতিক দূরদর্শিতা ও সমন্বয়ের অভাবই এই মেগা প্রকল্পগুলোকে শ্বেতহস্তীতে পরিণত করেছে। কেবল ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করলেই যে বাণিজ্য বাড়ে না, বরং তার সাথে নীতিগত সংস্কার ও লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন জরুরি, তা এই প্রকল্পগুলোর ব্যর্থতা প্রমাণ করে। উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার আগে প্রকল্পগুলোর প্রকৃত উপযোগিতা এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা কঠোরভাবে যাচাই করা উচিত ছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় প্রকল্পে অর্থায়নের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি আরও বড় ঝুঁকিতে পড়বে। তাই অবিলম্বে বন্দরগুলোর পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাধা দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।
“মেগা প্রকল্পের নামে অপরিকল্পিত ঋণ গ্রহণ এবং বাস্তবসম্মত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অভাবই স্থলবন্দরগুলোর এই আর্থিক সংকটের মূল কারণ। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নীতিগত সংস্কার ও লজিস্টিকস খাতের আধুনিকায়ন না হলে এই ঋণ দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বোঝা হয়ে থাকবে।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



