নায়িকা শাবানা কেন অভিনয় ছেড়েছিলেন
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

মাত্র আট বছর বয়সে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক। এরপর তিন যুগ ধরে অভিনয়, একের পর এক উপহার দিয়েছেন দর্শকনন্দিত সব সিনেমা আর পেয়েছেন হৃদয় উজাড় করা ভালোবাসা।
- মাত্র আট বছর বয়সে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক।
- এরপর তিন যুগ ধরে অভিনয়, একের পর এক উপহার দিয়েছেন দর্শকনন্দিত সব সিনেমা আর পেয়েছেন হৃদয় উজাড় করা ভালোবাসা।
- এর মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের অনন্য এক জায়গা তৈরি করেছিলেন।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
মাত্র আট বছর বয়সে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক। এরপর তিন যুগ ধরে অভিনয়, একের পর এক উপহার দিয়েছেন দর্শকনন্দিত সব সিনেমা আর পেয়েছেন হৃদয় উজাড় করা ভালোবাসা। এর মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের অনন্য এক জায়গা তৈরি করেছিলেন। পুরো নাম আফরোজা সুলতানা রত্না হলেও তিনি বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে শাবানা নামেই পরিচিত। অভিনয়জীবনের ব্যস্ত সময়ে হঠাৎ ক্যামেরার সামনে থেকে সরে দাঁড়ান তিনি, পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। ফেলে যান দীর্ঘদিনের কর্মজীবন, সহশিল্পী ও অগণিত ভক্তকে। কেন এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছিলেন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই অভিনয়শিল্পী। শাবানার মতে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং মা হিসেবে তাঁদের পাশে থাকার তাগিদ থেকেই অভিনয় ছেড়েছিলেন তিনি। বাবা–মায়ের আফরোজা সুলতানা রত্না, ষাটের দশকের শুরুতে এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ ১৯৬৭ সালে একই পরিচালকের উর্দু পরে একের পর এক এরপর নায়িকা থেকে ভাবি, মা—বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন ১১টি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং দেশের চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তাঁকে দেওয়া হয় আজীবন সম্মাননা। শাবানার বাবার নাম ফয়েজ চৌধুরী, যিনি চট্টগ্রাম আদালতপাড়ায় টাইপিস্ট ছিলেন, একটা সময় চলচ্চিত্র পরিচালক আজিজুর রহমানের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় পরিচালনাও করেন। আর মা ফজিলাতুন্নেসা ছিলেন গৃহিণী।
পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই প্রথম সিনেমায় অভিনয়ে নাম লেখান শাবানা। ‘নতুন সুর’ পারিবারিক পরিচয়ের সূত্রে শাবানার বাবাকে তখন এহতেশামই বলেছিলেন, ‘তোর মেয়েটাকে আমি একটি ’ শাবানার বাবা তখন নাকি এভাবেই বলেছিলেন, ‘রত্না (শাবানার ডাক নাম) কীভাবে অভিনয় করবে। সে এত লাজুক, কারও সামনেই আসতে চায় না। ’ নাছোড়বান্দা এহতেশাম বলেছিলেন, ‘তোর মেয়েটার মতো একটা মেয়েই আমি খুঁজছি। এরপর শাবানার বাবা রাজি হন। সেই সময়ের কথা মনে করে শাবানা প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘ ” আমাকে জড়িয়ে ভাইয়া বলবে, “তাই নাকি রে। ” প্রথমবারে শট ওকে। তার পর থেকে মায়ের চেয়ে বাবাই সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করতেন, অনুপ্রেরণা দিতেন। আমার বাবাও কিন্তু কয়েকটি “মুক্তি” (১৯৬৯), “মালকাবানু” (১৯৭৪), “বিজয়িনী সোনাভান” (১৯৭৯), “আলতাবানু” (১৯৮২) ও “রাজার মেয়ে বেদিনী” (১৯৯১)। এর মধ্যে তো “মালকাবানু” সুপারহিট। গানগুলো এখনো মানুষ গায়। বাবা যে রত্নাকে তাঁর জীবনের শুরুতে চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে দিতে চাননি, পরে সেই বাবাই হয়ে ওঠেন তাঁর অনুপ্রেরণা।
একটা সময় বাবা ফয়েজ চৌধুরী পরিচালিত সিনেমায়ও অভিনয় করেছিলেন শাবানা। এভাবে ধীরে ধীরে শাবানা হয়ে ওঠেন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের একটা বড় অধ্যায়। এ অধ্যায়ে তিনি শেষ করেন ২৯৯টি সিনেমার কাজ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন আলমগীরের বিপরীতে। এই নায়কের বিপরীতে তাঁর অভিনীত এরপরই যাঁর সঙ্গে জুটি হয়ে বেশি অভিনয় করেছেন, তিনি নায়করাজ রাজ্জাক। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় অভিনয় ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি শাবানার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। দীর্ঘদিনের পেশা ও চেনা জগৎ ছেড়ে যাওয়ার পেছনে ছিল সন্তানদের নিয়ে তাঁর উদ্বেগ। সন্তানদের ভবিষ্যৎ ঠিকঠাকভাবে করে দিতে চলে যান তিনি। বড় মেয়ে সুমী এ লেভেল শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে ছোট মেয়ে ঊর্মি ও ছেলে নাহিনও সেখানে চলে যান। সন্তানদের কাছ থেকে দূরে থেকে তাঁদের বেড়ে ওঠার সময়টুকু হারাতে চাননি শাবানা। প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে শাবানা বলেন, ‘লাখো-কোটি মানুষের ভালোবাসায় শাবানা হলাম।
হঠাৎ মনে হলো, সন্তানদেরও তো সময় দেওয়া দরকার। আমার বড় মেয়ে সুমী তখন এ লেভেল শেষ করল। উচ্চশিক্ষার জন্য তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হলো। কিছুদিন পর ছোট মেয়ে ঊর্মি আর ছেলে নাহিনও যুক্তরাষ্ট্রে চলে গেল। ওদের সবার বয়সই–বা তখন আর কত। বাচ্চারা আমাকে খুব মিস করছিল। দেশে যখন ছিল, তখন তো আমার চোখের সামনেই ছিল। কাজের ফাঁকে দেখতাম। তখন আমিও ভাবলাম, মা হিসেবে আমার তো কিছু দায়িত্ব আর কর্তব্য আছে। সন্তানদের যদি ঠিকভাবে গড়ে তুলতে না পারি, তাহলে আমার এই অভিনয়জীবন দিয়ে কী হবে। তাই কষ্ট হলেও সিনেমা ছেড়ে সন্তানদের ব্যাপারে মনোযোগী হলাম। এ জন্যই বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।
“ঢাকা অঞ্চলে গৃহীত এ উদ্যোগ ও ঘটনাপ্রবাহের ক্ষেত্রে কেবল তাৎক্ষণিক ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক সমাধান এবং নাগরিক সুবিধার দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা দেওয়াই সর্বোত্তম নীতি।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



