জেন-আলফার ‘নো ননসেন্স’ মনোভাবের প্রশংসায় কঙ্গনা রনৌত: নতুন প্রজন্মের মনস্তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

বলিউড অভিনেত্রী ও বিজেপি সংসদ সদস্য কঙ্গনা রনৌত নতুন প্রজন্ম অর্থাৎ 'জেন-আলফা'র স্পষ্টভাষী ও বাস্তবমুখী মনোভাবের প্রশংসা করেছেন। তার মতে, ২০১০ সালের পর জন্ম নেওয়া এই প্রজন্মের শিশুরা প্রথাগত জটিলতা এড়িয়ে সরাসরি মূল বিষয়ে মনোযোগ দিতে পছন্দ করে, যা ভবিষ্যৎ সমাজের জন্য ইতিবাচক।
- বলিউড অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য কঙ্গনা রনৌত জেন-আলফার স্পষ্টবাদিতা ও 'নো ননসেন্স' মনোভাবের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
- সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, ২০১০ সালের পর জন্ম নেওয়া এই প্রজন্মটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল যুগে বড় হচ্ছে এবং ২০২৫ সালের মধ্যে তাদের সংখ্যা ২০০ কোটি ছাড়াবে।
- বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই প্রজন্মের বাস্তবমুখী মনোভাব ইতিবাচক হলেও তাদের সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও স্ক্রিন টাইম বৃদ্ধির ঝুঁকি রয়েছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
বলিউড অভিনেত্রী ও ভারতের হিমাচল প্রদেশের মান্ডি আসনের লোকসভা সদস্য কঙ্গনা রনৌত সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন প্রজন্ম অর্থাৎ 'জেন-আলফা'র জীবনদর্শন ও কাজের প্রতি তাদের আপসহীন মনোভাবের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ২০১০ সালের পর জন্ম নেওয়া এই প্রজন্মের শিশুদের 'নো ননসেন্স' বা ফালতু বিষয় এড়িয়ে চলার মানসিকতা তাকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করেছে বলে তিনি জানান। কঙ্গনার মতে, এই নতুন প্রজন্ম প্রথাগত জটিলতা ও অপ্রাসঙ্গিক আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে সরাসরি মূল বিষয়ে মনোযোগ দিতে পছন্দ করে, যা তাদের পূর্বসূরিদের চেয়ে আলাদা করেছে। সমসাময়িক সামাজিক বাস্তবতায় তরুণদের এই মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনকে তিনি ভবিষ্যৎ সমাজ বিনির্মাণের একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, 'জেন-আলফা' হলো সম্পূর্ণভাবে একবিংশ শতাব্দীতে জন্ম নেওয়া প্রথম প্রজন্ম, যারা প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চরম বিকাশের মধ্য দিয়ে বড় হচ্ছে। কঙ্গনা রনৌত নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে এই প্রজন্মের শিশুদের একটি কথোপকথনের উদাহরণ টেনে তাদের স্পষ্টবাদিতা ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, পূর্ববর্তী জেনারেশন জেড বা মিলেনিয়ালদের মতো এরা কোনো বিষয়ে অহেতুক দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে না, বরং নিজেদের অধিকার ও সীমানা সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন। বিশ্বজুড়ে এই প্রজন্মের জনসংখ্যা ২০২৫ সালের মধ্যে ২০০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বৈশ্বিক শ্রমবাজার ও সংস্কৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।
কঙ্গনার এই মন্তব্য বিনোদন জগৎ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রজন্মের ব্যবধান ও তাদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষা গবেষক ও শিশু মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, অতি-ডিজিটালাইজেশন এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহের কারণে জেন-আলফা অত্যন্ত বাস্তবমুখী ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে, তবে তাদের অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকিও রয়েছে। ভারতের বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে কঙ্গনার এই বক্তব্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, যেখানে অনেকে তার পর্যবেক্ষণকে সমর্থন করলেও কেউ কেউ একে অতি-সরলীকরণ বলে অভিহিত করেছেন। তা সত্ত্বেও, নীতিনির্ধাকর ও শিক্ষাবিদরা একমত যে, এই প্রজন্মের মনস্তত্ত্ব বুঝতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কর্মসংস্থান পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়তে পারে।
চলতি নিউজের সম্পাদকীয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, কঙ্গনা রনৌতের মতো একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের মুখে জেন-আলফার প্রশংসা মূলত প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রতি এক ধরনের পরোক্ষ সমালোচনা। নতুন প্রজন্মের এই 'নো ননসেন্স' মনোভাব যদি সঠিক দিকনির্দেশনা না পায়, তবে তা সামাজিক সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ঘাটতি তৈরি করতে পারে। রাষ্ট্র ও সমাজকে কেবল তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে স্বাগত জানালেই চলবে না, বরং তাদের মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার শিক্ষায় দীক্ষিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। শেষ পর্যন্ত, এই প্রজন্মের বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গিকে কাজে লাগিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক ও দক্ষ সমাজ গড়ে তোলাই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।
“কঙ্গনা রনৌতের পর্যবেক্ষণটি জেন-আলফার বাস্তবমুখী মানসিকতাকে তুলে ধরলেও, এই প্রজন্মের প্রযুক্তি-নির্ভরতা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকিকে উপেক্ষা করা যায় না। তাদের এই 'নো ননসেন্স' মনোভাবকে একটি ইতিবাচক সামাজিক শক্তিতে রূপান্তর করতে হলে প্রথাগত শিক্ষা ও পারিবারিক মূল্যবোধের মেলবন্ধন ঘটানো জরুরি।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



