ঘুষ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণদের আপসহীন ভূমিকার আহ্বান রাশেদ খানের
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

দেশে টেকসই রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার নিশ্চিত করতে ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নতুন বাংলাদেশে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না এবং তরুণ সমাজকে এর বিরুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
- গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মাদককে সামাজিকভাবে বর্জনের ডাক দিয়েছেন।
- রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও চাঁদাবাজি বন্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
- রাজনৈতিক দলগুলোর তৃণমূল নেতাকর্মীদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে অভ্যন্তরীণ তদারকি সেল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
বাংলাদেশে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন ও একটি বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান। সম্প্রতি রাজধানীতে আয়োজিত এক গণসমাবেশে তিনি এসব সামাজিক ব্যাধিকে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা 'হারাম' হিসেবে ঘোষণা করে তরুণদের রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলের অপকর্মের পুনরাবৃত্তি নতুন বাংলাদেশে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের নিজেদের আচরণে পরিবর্তন আনার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং মাদক ব্যবসা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করেছে, যা দেশের অর্থনীতি ও যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা এবং পরিবহন খাতে অবৈধ চাঁদা আদায়ের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দৈনিক কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল। এই প্রেক্ষাপটে রাশেদ খানের এই ঘোষণা রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ শুদ্ধি অভিযান এবং তৃণমূল পর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখার একটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ঘোষণার পর গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা কমিটিকে কঠোর নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে, যাতে কোনো নেতাকর্মী কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়েন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না এবং চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বজায় রাখা হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকেরা রাজনৈতিক নেতাদের এই ধরনের প্রকাশ্য অঙ্গীকারকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে তারা এর বাস্তব প্রয়োগ দেখতে চান। মাঠ পর্যায়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে police ও যৌথ বাহিনীর নিয়মিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় কার্যালয়গুলোতেও এখন শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিশেষ তদারকি সেল গঠন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক নেতাদের মুখে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বক্তব্য নতুন কিছু নয়, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এর বাস্তব রূপায়ণই আসল চ্যালেঞ্জ। কেবল মুখের কথায় বা ধর্মীয় দোহাই দিয়ে সমাজ থেকে অপরাধ দূর করা সম্ভব নয়, যদি না রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের কর্মীদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে আকাঙ্ক্ষা তরুণদের মাঝে তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া এবং বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের মাধ্যমেই কেবল এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। অন্যথায়, ক্ষমতার হাতবদল হলেও শোষণের কাঠামোগত কোনো পরিবর্তন আসবে না, যা জনগণের প্রত্যাশার সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা হবে।
“রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপরই নির্ভর করছে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গঠন। কেবল মৌখিক হুঁশিয়ারি নয়, অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণই জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।”
এই বিভাগের আরও সংবাদ

জামায়াত বিসমিল্লাহ বলে মিথ্যা বলে, এনসিপিও তা শিখছে: রাশেদ খাঁন
এইমাত্র
বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্যকে অব্যাহতি: অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানে হাইকমান্ড
এইমাত্র
২১ সেপ্টেম্বর মার্কিন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান; দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্য
এইমাত্রবাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।
