শান্তির পতাকা উড়ছে, থামছে না যুদ্ধ
1-Click Audio Report (Universal Voice)

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ চলছে। বাড়ছে প্রাণহানি, ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক সংকট।
- বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ চলছে।
- বাড়ছে প্রাণহানি, ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক সংকট।
- যুদ্ধ বন্ধে চলছে কূটনৈতিক উদ্যোগও।
National Investment & Sovereign Savings Bond Scheme
Secure high guaranteed yields backed by official treasury securities.
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ চলছে। বাড়ছে প্রাণহানি, ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক সংকট। যুদ্ধ বন্ধে চলছে কূটনৈতিক উদ্যোগও। তবু শান্তি ফিরছে না অনেক অঞ্চলে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত, গাজায় ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ, ইউক্রেনের যুদ্ধ এবং ইয়েমেনে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া লড়াই বিশ্বশান্তির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সংকটে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়েও বাড়ছে প্রশ্ন। আজ ২৪ অক্টোবর, জাতিসংঘ দিবস। ১৯৪৫ সালের এই দিনে জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হয়। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে সংস্থাটি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পর বিশ্বে আরেকটি বড় যুদ্ধ ঠেকানো, আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো ছিল এর প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ৮১ বছর পরও বিশ্বজুড়ে সংঘাত থামেনি। বরং বিভিন্ন অঞ্চলের যুদ্ধ একে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। আঞ্চলিক বিরোধ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও ফেলেছে প্রভাব। এসব সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের উদ্যোগ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা যুদ্ধ বন্ধ করতে পারছে না। ইরানকে ঘিরে বাড়ছে সংঘাতের ঝুঁকি: ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে করেছে আরও জটিল। ২২ অক্টোবর রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সাতটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী।
এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলার হুমকিও দিয়েছে ইরান। এ ধরনের ঘটনা সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ায়। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং বিশ্ব অর্থনীতিও ঝুঁকিতে পড়ে। জাতিসংঘের সামনে তাই বড় চ্যালেঞ্জ হলো—সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনায় আনা এবং সংঘাতের বিস্তার ঠেকানো। কিন্তু কূটনৈতিক আহ্বান থাকলেই যুদ্ধ বন্ধ হয় না। সংঘাতের পক্ষগুলো সমঝোতায় না এলে এবং শক্তিশালী দেশগুলো নিজেদের অবস্থান থেকে সরে না এলে জাতিসংঘের উদ্যোগও বাধার মুখে পড়ে। গাজায় শান্তির উদ্যোগ, তবু অনিশ্চয়তা: গাজায় ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি করেছে। যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ থাকলেও বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। জাতিসংঘ বারবার যুদ্ধবিরতি, ত্রাণ প্রবেশ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু এসব আহ্বানকে বাস্তবে কার্যকর করার ক্ষমতা সীমিত। ফলে শান্তির প্রস্তাব ও সাধারণ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে ব্যবধান থেকে যাচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধেও শান্তি অধরা: ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও হামলা থামেনি। ২২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভে হতাহত ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনও রাশিয়ার দিকে শত শত ড্রোন পাঠিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনা ফের শুরুর সম্ভাবনা থাকলেও যুদ্ধের অবসান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এই যুদ্ধ জাতিসংঘের সীমাবদ্ধতাও সামনে এনেছে।
রাশিয়া নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং যুদ্ধের একটি পক্ষ। ফলে নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাব্যবস্থার কাঠামো নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। ইয়েমেনে হুতি-সৌদি সংঘাত: ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সৌদি আরব সমর্থিত পক্ষগুলোর মধ্যে সংঘাতও নতুন করে তীব্র হয়েছে। ১৫ অক্টোবর রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়েমেনের এডেন শহরে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ এলাকায় হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই নিরাপত্তারক্ষী নিহত হন। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটও সৌদি অবকাঠামোয় হামলার বিবরণ প্রকাশ করে। ২১ অক্টোবর হুতিরা সৌদি আরবের মদিনার দিকে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করে। অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ওই অঞ্চলে ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল। ইয়েমেনের সংকট শুধু দুই পক্ষের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের বিষয়ও জড়িত। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২০২২ সালে যে যুদ্ধবিরতি সীমান্তপারের হামলা অনেকাংশে কমিয়েছিল, সাম্প্রতিক লড়াই সেই অর্জনকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। সুদানে মানবিক বিপর্যয়: সুদানেও ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ চলছে। প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও খাদ্যসংকট পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছে। ২১ অক্টোবর জাতিসংঘ জানায়, সুদানের যুদ্ধ বন্ধ এবং মানবিক সংকট মোকাবিলায় জেনেভায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনা করেছেন। তবে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়ে অগ্রগতি এখনও কঠিন। জাতিসংঘের মধ্যস্থতা ও ত্রাণ কার্যক্রম এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু যুদ্ধরত পক্ষগুলো সমঝোতায় না এলে এবং বাইরে থেকে অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা আসতে থাকলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কেন যুদ্ধ থামাতে পারছে না জাতিসংঘ। জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতার একটি হলো নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ব্যবস্থা। পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন—যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে ভেটো দিতে পারে। একজন স্থায়ী সদস্য ভেটো দিলেই প্রস্তাবটি আটকে যেতে পারে। ফলে বড় শক্তিগুলোর স্বার্থের সংঘাত দেখা দিলে নিরাপত্তা পরিষদ ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব রাজনৈতিক বিরোধে আটকে যায়। এতে জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে সব ব্যর্থতার দায় শুধু জাতিসংঘের নয়। সংস্থাটি রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধরত পক্ষগুলো আলোচনা প্রত্যাখ্যান করলে, আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করলে কিংবা শক্তিশালী দেশগুলো নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিলে জাতিসংঘের পক্ষে সংকটের সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবু জাতিসংঘের বিকল্প নেই জাতিসংঘ যুদ্ধ বন্ধে সব সময় সফল না হলেও কূটনৈতিক আলোচনা, শান্তিরক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের কাছে খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয় পৌঁছানো এবং শরণার্থীদের সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সংস্থাটির বিভিন্ন শাখা কাজ করে। তবে শুধু বিবৃতি ও আহ্বানে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা বাড়ানো, ভেটো ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর সদিচ্ছা ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বাস্তব সহযোগিতাও প্রয়োজন। জাতিসংঘ দিবসে তাই প্রশ্নটি শুধু সংস্থাটি কতটা সফল, তা নয়। প্রশ্ন হলো, বিশ্বশান্তির অঙ্গীকার করা রাষ্ট্রগুলো নিজেরাই সেই অঙ্গীকার কতটা মানছে।
“In evaluating developments in Dhaka, institutional accountability and long-term public welfare must remain the guiding benchmarks for sustainable progress.”
Digital Innovation Summit 2026
Join South Asia's leading tech and AI entrepreneurship summit.
