মহারাষ্ট্রে সরকারি হাসপাতালের নবজাতক ইউনিটে অগ্নিকাণ্ড, ৩ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু
১-ক্লিকে সম্পূর্ণ খবর শুনুন (অনলাইন অডিও)

ভারতের মহারাষ্ট্রের একটি সরকারি হাসপাতালের বিশেষ নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্রে (SNCU) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত তিনটি সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর হাসপাতালগুলোতে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং রাজ্য সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
- মহারাষ্ট্রের সরকারি হাসপাতালের বিশেষ নবজাতক কেয়ার ইউনিটে (SNCU) অগ্নিকাণ্ডে ৩টি সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
- রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন এবং নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
- অগ্নিকাণ্ডের সময় ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অন্যান্য শিশুদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও হাসপাতালের অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আধুনিক ফুল-স্ট্যাক ও এআই ডেভেলপমেন্ট বুটক্যাম্প
ঘরে বসেই ক্যারিয়ার গড়ুন বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে। সীমিত আসন!
ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের একটি সরকারি হাসপাতালের বিশেষ নবজাতক পরিচর্যা কেন্দ্রে (এসএনসিইউ) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি সদ্যোজাত শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গভীর রাতে যখন হাসপাতালের রোগীরা ঘুমন্ত ছিলেন, ঠিক তখনই এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে এবং মুহূর্তের মধ্যে তা পুরো ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এবং দগ্ধ হয়ে নিষ্পাপ শিশুদের এই অকাল মৃত্যু স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করেছে যে, দেশের সংবেদনশীল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে রোগীদের জীবন কতটা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, নবজাতক ওয়ার্ডের একটি এয়ার কন্ডিশনার বা ভেন্টিলেটর থেকে সৃষ্ট বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। ভারতের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এর আগেও একাধিকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মূলত অপর্যাপ্ত বাজেট ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবকে দায়ী করা হয়। হাসপাতালটিতে কোনো কার্যকর ফায়ার অ্যালার্ম সিস্টেম সচল ছিল না এবং অগ্নি নির্বাপণ মহড়ারও কোনো সাম্প্রতিক রেকর্ড পাওয়া যায়নি। এই কাঠামোগত অবহেলা এবং নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি এখন তদন্তকারীদের প্রধান নজরে রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় দমকল বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং ওয়ার্ডে থাকা অন্যান্য শিশুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। রাজ্য স্বাস্থ্য বিভাগ ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং আগামী তিন দিনের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সাথে রাজ্যজুড়ে সমস্ত সরকারি হাসপাতালের অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় অডিট করার জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অগ্নিকাণ্ড নয়, বরং এটি সরকারি স্বাস্থ্য খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা ও জবাবদিহিতার অভাবকে নগ্নভাবে প্রকাশ করে। অতি সংবেদনশীল নবজাতক ওয়ার্ডে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার এমন বেহাল দশা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শুধুমাত্র তদন্ত কমিটি গঠন বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা আড়াল করা সম্ভব নয়। ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি এড়াতে হলে স্বাস্থ্য অবকাঠামোতে নিয়মিত নিরাপত্তা অডিট নিশ্চিত করা এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা জরুরি।
“এই অগ্নিকাণ্ডটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতের চরম অবহেলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে নির্দেশ করে। কেবল তদন্ত কমিটি গঠন ও ক্ষতিপূরণ প্রদান দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয়, বরং প্রতিটি হাসপাতালে নিয়মিত ফায়ার অডিট ও আধুনিক অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই হবে প্রকৃত জবাবদিহিতা।”
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্টার্টআপ ও এআই কনফারেন্স
রেজিস্ট্রেশন চলছে। এখনই আপনার আসন নিশ্চিত করুন।



